


বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: কদিন আগের বিপর্যয় এখনও সামলে উঠতে পারেনি উত্তরবঙ্গের সমতল, পাহাড়। তুমুল বৃষ্টি, ধস, বন্যা পরিস্থিতি বুঝিয়ে দিয়েছে, যেকোনও বিপর্যয় ও দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সারাবছরের প্রস্তুতি ও সতর্কতা কতটা জরুরি। এখানে একটি লেভেল তিন স্তরের একটি ট্রমা সেন্টার, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বেড এবং জরুরি ভিত্তিতে এয়ার লিফটিং করার অসামরিক ব্যবস্থা থাকাও কতটা জরুরি। দাবি উঠেছে, এই ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টকে নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে ঢেলে সাজা হোক দার্জিলিং পাহাড়ের সবচেয়ে বড়ো সরকারি হাসপাতালকে (দার্জিলিং জেলা হাসপাতাল)। এখানকার দ্বিতীয় জেলা হাসপাতাল হল কালিম্পং জেলা হাসপাতাল। পরিকাঠামোর সংস্কার করা উচিত এখানেও। প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন?
দপ্তর সূত্রের খবর, এই দুই জেলা হাসপাতাল মিলিয়ে বর্তমানে অভাব ১৬০ জন চিকিৎসক-নার্সের। দার্জিলিং জেলা হাসপাতালের সুপার পদই ফাঁকা। জেলায় এসিএমওএইচ নেই। শুধু এই জেলা হাসপাতালেই অভাব ২৮ জন মেডিকেল অফিসারের। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে কালিম্পং জেলার মর্যাদা পেলে সেখানকার মহকুমা হাসপাতালও জেলা হাসপাতালের মর্যাদা পায়। সেখানেও বর্তমানে ফাঁকা অন্তত ২৫ জন এমও পদ।
জেলা সূত্রের খবর, সাধারণভাবে পাহাড়ের রোগীর চাপ সমতলের তুলনায় কম বলে এখানে কর্মরত মেডিকেল অফিসার বা জিডিএমওরা অনেক নিশ্চিন্তে এবং বেশি সময় দিয়ে এমডি-এমএস-এ ভর্তির পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পড়াশোনা করতে পারেন। সার্ভিস কোটায় এমডি-এমএস-এ ভর্তির সুযোগ পাওয়া চিকিৎসকের সংখ্যাও অন্যান্য বহু জেলার থেকে এখানে বেশি। মে মাসেই এখানকার ২০ জন জিডিএমও ট্রেনি রিজার্ভ (টিআর) হিসেবে এমডি-এমএস পড়বার সুযোগ পেয়ে চলে গিয়েছেন। গতবছর এই সংখ্যা ছিল ১৫। কিন্তু, কারণ যাই হোক না কেন, পাহাড়ে স্বাস্থ্য পরিষেবার অন্যতম স্তম্ভ যে দু-ধরনের পেশাজীবীরা, সেই চিকিৎসক এবং নার্সিংকর্মীর ব্যাপক অভাব চলছে এখানে। ফলে রীতিমতো শঙ্কিত সিনিয়র চিকিৎসক ও কর্তারা। কারণ, সপ্তাহ দেড়েক ধরে বিপর্যয় পরিস্থিতি চলছে। ফের নতুন বিপদ আসবে, কেউ জানেন না। একদিকে জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে স্ট্র্যাটেজিক লোকেশন এবং চিকেন নেকের কারণে যেকোনও সময় যুদ্ধের চাপা আশঙ্কা লেগে থাকে। তার মধ্যে এখন বছরভরই পর্যটকদের আনাগোনা। পথ দুর্ঘটনাও প্রচুর হয়। উচ্চতাজনিত এবং অন্যান্য অসুস্থতাও লেগে রয়েছে।
জেলা সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের সময়ও কম পরিকাঠামো নিয়েই চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা লড়ে গিয়েছেন। শুধু দার্জিলিং জেলা হাসপাতালেই চিকিৎসা হয়েছিল ১৭৩ জনের। তার মধ্যে তিন-চারজন পর্যটকও ছিলেন। ছোট-মাঝারি অপারেশন হয় ৩৭ জনের। মারাত্মক পলিট্রমা থাকায় ৬ জনের বড় অস্ত্রোপচার করতে হয়। কিন্তু ভবিষ্যতে আরও বড়ো কোনও বিপদ-বিপর্যয় এলে? দার্জিলিং-এর মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ তুলসী প্রামাণিক বলেন, এটুকু বলতে পারি, যা যা সুবিধা-অসুবিধা আছে, স্বাস্থ্যভবনে জানিয়েছি।