


অর্জুন দত্ত পরিচালিত আসন্ন ছবি ‘বিবি পায়রা’ নিয়ে আড্ডা দিলেন দুই অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তী এবং অনিন্দ্য সেনগুপ্ত।
• নয়ের দশকের বিখ্যাত গান ‘বিবি পায়রা...’। জাতীয় পুরস্কার জয়ী পরিচালক অর্জুন দত্তের আসন্ন বাংলা ছবির নামও ‘বিবি পায়রা’। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন দুই মহিলা। দুই মহিলার জীবন ঘিরেই আবর্তিত ছবির চিত্রনাট্য। ফিমেল ডমিনেটিং ছবিতে দুই পুরুষ অনির্বাণ চক্রবর্তী এবং অনিন্দ্য সেনগুপ্ত কি কোণঠাসা?
নামে কী আসে যায়
নামে আসে যায় বৈকি! নাম আকর্ষণীয় হলে তা নিয়ে কৌতূহল জন্মায়। এমনই মত অনিন্দ্য সেনগুপ্তর। অনিন্দর কথায়, ‘নামের আকর্ষণ অনস্বীকার্য। তবে ছবিতে এই নাম ব্যবহার করা কিন্তু কোনো গিমিক নয়। আমরা যারা আশি বা নব্বইয়ের দশকে বড় হয়েছি তাদের এই ‘বিবি পায়রা’র সঙ্গে রিলেট করতে সুবিধা হবে। ‘বিবি পায়রা’ গানটিকে ট্রিবিউট দেওয়ার চেষ্টা মাত্র। তবে ওই সময়ের ছবির চিত্রনাট্যের বানিজ্যিক মশলা-মুভির স্বাদ আমাদের ছবিতেও থাকছে।’ অনির্বাণের সংযোজন, ‘বিবি পায়রা নামটি শুধুমাত্র আকর্ষণীয় বলেই যে ব্যবহার করা হয়েছে এমনটা নয়। শুধু নাম নয়, এই ছবির চরিত্ররা ভীষণভাবে মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত। দর্শক খুব সহজেই ছবির সঙ্গে রিলেট করতে পারবেন।’
দুই পুরুষ
ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র দু’জন মহিলা। এই দুই চরিত্রে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় এবং পাওলি দাম অভিনয় করেছেন। এদের জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে আবর্তিত ছবির গল্প। দুই মহিলা চরিত্রকে সঙ্গত করতেই ছবিতে পুরুষ চরিত্রদের অবতারণা। মহিলা চরিত্র কেন্দ্রিক ছবিতে অভিনয়ের চাপ বেশি? অনির্বাণের জবাব, ‘আমার ক্ষেত্রে খুব পার্থক্য মনে হয়নি। কারণ আমাদের পুরুষ প্রধান ছবির সংখ্যা বেশি। সেখানে খুব শক্তিশালী অভিনেত্রীরা অভিনয় করেন। আমার কাছে চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ।’ অনিন্দ্যর মত, ‘এই বিষয়ে আমার দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। আমার কাছে আমার চরিত্রটি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। এই ছবিতে পাওলি এবং স্বস্তিকার বদলে যদি দেব এবং প্রসেনজিৎ থাকতেন, তাহলেও আমি আমার চরিত্র এবং অভিনয়ে ফোকাস করতাম। কারণ চরিত্ররাই থেকে যায়।’
অভিনয়ের নেশা
অনির্বাণ এবং অনিন্দ্যর নেশা অভিনয়। এই নেশার টানেই তাঁরা অভিনয়ের পেশায়। প্রথম পেশা বদলে তাঁরা অভিনয় জগতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অনির্বাণ পেশায় ছিলেন অধ্যাপক। থিয়েটারের মঞ্চ ছিল তাঁর প্রথম প্রেম। অনিন্দ্য রেডিও এবং অ্যাঙ্কারিং দিয়ে পেশাগত জীবন শুরু করেন। ধীরে ধীরে অভিনয় জগতে প্রবেশ। দুই ক্ষেত্রেই অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা ছিল। ‘আমি যখন অধ্যাপনা করতাম তখন মঞ্চে অভিনয়ও করতাম। তবুও অভিনয়ের খিদে আমাকে তাড়িয়ে বেড়াত। আমার কাছে প্রচুর অভিনয়ের সুযোগ আসত। যেহেতু ফুল টাইম আমার একটা কাজ ছিল তাই পুরোপুরি অভিনয়ে মনোনিবেশ করতে পারতাম না। তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম চাকরি ছেড়ে অভিনয় করব। অবশ্যই এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কিন্তু তবুও মনের ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম’, বললেন অনির্বাণ। আবার অনিন্দ্য বললেন, ‘আমি যে বয়স থেকে সঞ্চালক হিসেবে পেশার জগতে প্রবেশ করি তখন আমার টাকার প্রয়োজন ছিল। আমার সারভাইভ করার অদম্য জেদ ছিল। ধীরে ধীরে নিজের শৈল্পিক সত্তার টানে সারা দিয়েছি।’
সম্মান, প্রত্যাশা, জাতীয় পুরস্কার
অর্জুন দত্তের এর আগের মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ডিপ ফ্রিজ’ জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছে। সে কারণে ঠিক পরের ছবি ‘বিবি পায়রা’র প্রতি কি প্রত্যাশা অনেক বেশি? অনিন্দ্যর কথায়, ‘যখন ‘ডিপ ফ্রিজ’ জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে তখন আমাদের ‘বিবি পায়রা’র শ্যুটিং হয়ে গিয়েছে। অর্জুন এই ছবিতে অন্য ধারার গল্প বলেছে। ভালো কাজের প্রত্যাশা থাকাটা খুব স্বাভাবিক। আমরাও প্রত্যাশা পূরণের জন্য মুখে রয়েছি।’ অনির্বাণ যোগ করলেন, ‘আমি এটুকু বলতে পারি, অর্জুনের আগের সব কাজ থেকে ‘বিবি পায়রা’ সম্পূর্ণ আলাদা। দেখলে অবাক হবেন।’