


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া স্টেশন ও শালিমার চত্বরে ভিনরাজ্যের ‘সরল’ যাত্রীদের টার্গেট করে চলছিল সুপরিকল্পিত প্রতারণা। ‘সুরক্ষার’ নামে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল নগদ টাকা, সোনার গয়না ও মূল্যবান সামগ্রী। এই চক্রের দু’জনকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এবার হাওড়া সিটি পুলিশের জালে ধরা পড়ল বিহারের মুজফফরপুর গ্যাংয়ের আরও দুই সদস্য। বুধবার গভীর রাতে হাওড়া ময়দানের বঙ্কিম সেতুর নীচ থেকে মিথিলেশ কুমার ও সনু কুমার মাহাতো নামের দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে হাওড়া থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাদের হাওড়া আদালতে তোলা হয়। বিচারক ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া ও শালিমার স্টেশনে ট্রেন থেকে নামা ভিনরাজ্যের যাত্রীদের নিশানা করত এই চক্র। বিশেষ করে বিহার থেকে আসা শ্রমিক বা কর্মপ্রত্যাশীদের কাছে গিয়ে নিজেদের ‘মুজফফরপুরের লোক’ পরিচয় দিয়ে প্রথমে আস্থা অর্জন করত। তারপর শুরু হত আসল খেলা। দাবি করা হত, টাকা পয়সা কিংবা সোনা দানা নিয়ে অচেনা শহরে ঘুরলে লুট হয়ে যেতে পারে। তাদের পরিচিত টিটি আছেন, যাঁর হেপাজতে মূল্যবান জিনিস রাখলে তা নিরাপদ থাকবে। এরপর যাত্রীদের শালিমার চত্বর কিংবা হাওড়া ময়দানে নিয়ে যাওয়া হত। সেখানে ভুয়ো চালান কেটে, ভুয়ো ‘টিটি অফিস’ দেখিয়ে গয়না ও টাকা নিজেদের দখলে নিত চক্রের সদস্যরা। মুহূর্তের মধ্যে উধাও হয়ে যেত তারা। কাজে এসে অচেনা শহরে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা বহু যাত্রীই এই ফাঁদে পা দিয়েছেন বলে অভিযোগ।
গত বছর থেকেই হাওড়া থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। তদন্তে নেমে পুলিশ আগেই মুজফফরপুর থেকে দুই সদস্যকে ধরেছিল। এবার শহরের বুক থেকে আরও দুই অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হল। এই চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত, তার খোঁজে তল্লাশি চলছে। হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘প্রতারণার এই নেটওয়ার্ক অনেক বড়ো। চক্র ভেঙে দিতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। চক্রের বাকিদের খোঁজ চলছে।’