


সংবাদদাতা, ঝালদা: ব্যবসার প্রয়োজনে বড়বাজারে কাপড় কিনতে গিয়ে কলকাতায় আক্রান্ত পুরুলিয়ার দুই যুবক। দুষ্কৃতীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে হাওড়ার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঝালদার জামলহর গ্রামের আস্তিক মাহাতো (২৫)। তাঁর সঙ্গী নাবালক ভাই বিবেককেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, তাঁদের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা ও মোবাইল ফোন লুঠ করে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। ভিনজেলা থেকে রাজধানীতে কাজ করতে এসে এই মর্মান্তিক পরিণতির ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন ঝালদাবাসী।
পেশায় টেন্ট হাউসের ব্যবসায়ী আস্তিক মাহাত গত বৃহস্পতিবার সকালে গ্রাম থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন। সঙ্গে ছিল বছর ষোলোর কিশোর বিবেক। আস্তিক বলেন, ব্যবসার জন্য নতুন কাপড় ও সরঞ্জাম কেনাই ছিল লক্ষ্য। কিন্তু কাজ সেরে ফেরার পথে হাওড়া স্টেশন চত্বরে গঙ্গা নদীর কাছে দুই জন্য দুষ্কৃতী তাঁদের ওপর চড়াও হয়। বাধা দিতে গেলে আস্তিকের পেটের ডান দিকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। রক্তক্ষরণ শুরু হলে দুষ্কৃতীরা তাঁর কাছে থাকা নগদ লক্ষাধিক টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে চম্পট দেয়।
বৃহস্পতিবার রাত তিনটে নাগাদ খবর পৌঁছায় জামলহর গ্রামে। তারপর থেকেই কান্নার রোল উঠেছে আস্তিকের পরিবারে। মা উপাসা মাহাত বলেন, নিজের রাজ্যে কেন আমাদের ছেলেরা আক্রান্ত হবে? যারা একাজ করেছে তাদের কঠোর শাস্তি চাই। এদিকে আস্তিকের বাবা জানান, তাঁর ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও বরাতজোরে প্রাণ বেঁচেছে। অন্যদিকে, বিবেকের বাবা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ছেলেকে দেড় হাজার টাকা দিয়েছিলাম একটা ফ্যান কিনতে। সেটাও কেড়ে নিয়েছে ওরা! মোবাইলগুলো নিয়ে নিয়েছে দুষ্কৃতীরা। নিজের রাজ্যে কি তাহলে আর কোনো নিরাপত্তা নেই? সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণের দাবি জানাই।
ঘটনার খবর পেয়েই ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ান স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। শুক্রবার সন্ধ্যায় জখম যুবকের বাড়ি যান পুরুলিয়া জেলা বিজেপি সভাপতি শঙ্কর মাহাত। তিনি হাওড়া তথা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূল সরকারকে সরাসরি নিশানা করেন। সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাত আহতদের বাড়ি ফেরানো ও উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দেন।
শঙ্কর মাহাতর প্রশ্ন, পুরুলিয়ার ছেলেরা এভাবে আক্রান্ত হচ্ছে, এখন তৃণমূল নেতারা কোথায়? এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের নেতারা জড়িত থাকে পুলিশ প্রশাসন জড়িত থাকে। আমরা ওই পরিবারের পাশে আছি। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তার ব্যবস্থা করব।
এদিকে জেলার তৃণমূলের চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাতোর কথায়, এসব অবান্তর কথাবার্তা বিজেপি বলছে। এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই তৃণমূলের কোনো নেতা, কর্মী জড়িত নন। পুলিশ, প্রশাসন যথেষ্ট সক্রিয়তার সঙ্গে কাজ করেছে। ওই ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার হয়েছে। প্রশাসন সম্পূর্ণ বিষয়টি দেখছে এই ঘটনা যারা ঘটিয়েছে দোষীরা শাস্তি পাবে। আক্রান্ত পরিবারের পাশে আমরা আছি। এদিকে, চিকিৎসাধীন আস্তিকের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও আতঙ্ক কাটেনি। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি।