


সংবাদদাতা, ঘাটাল: বিকট শব্দে কেঁপে উঠল এলাকা। চোখের নিমেষে ধুলোয় মিশে গেল আস্ত একটা দোতলা মাটির বসতবাড়ি। অল্পের জন্য প্রাণরক্ষা হলেও মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে এখন কার্যত দিশাহারা এক পরিবার। বৃহস্পতিবার সকালে দাসপুর-১ ব্লকের বাসুদেবপুর গ্রামের ঘটনা। দাসপুর-১ ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, ভেঙে পড়া বাড়ির সদস্যদের গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী দিনে কীভাবে সহযোগিতা করা যায় সেই বিষয়টিও প্রশাসন খতিয়ে দেখছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসুদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা দুই ভাই সতীশ চানক ও সত্য চানক দীর্ঘদিন ধরে ওই মাটির দোতলা বাড়িতে সপরিবারে বসবাস করছিলেন। এদিন সকালে আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বাড়িটির একাংশ। সৌভাগ্যবশত, দুর্ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা কেউ ঘরের ভেতরে ছিলেন না। ফলে বড়সড় প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে। তবে বাড়িটি ভেঙে পড়ায় ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উপযুক্ত নিকাশি ব্যবস্থা নেই। বর্ষার জল নামতে না পেরে বছরের পর বছর বাড়ির চারপাশেই জমে থাকত। জমা জলের কারণেই মাটির দেওয়াল ও ভিত ধীরে ধীরে নরম হয়ে বিপজ্জনক রূপ নিচ্ছিল। এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত আশঙ্কাই সত্যি হল। সর্বস্ব হারিয়ে পরিবারটি এখন খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে। আপাতত প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা।
সতীশবাবু বলেন, নিকাশি না থাকায় দীর্ঘদিন জল জমে বাড়ির ভিত দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। এখন নতুন করে ঘর বাঁধার সামর্থ্য আমাদের নেই। সরকারের কাছে আবেদন, দ্রুত খতিয়ে দেখে যেন আমাদের মাথা গোঁজার একটু স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়। পরনের কাপড়টুকু ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
এদিকে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও। স্থানীয় বিজেপি নেতা মদন দোলই প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থার চরম বেহাল দশা। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। আজ এই অসহায় পরিবারটি গৃহহীন হল। অবিলম্বে এদের পুনর্বাসন ও সরকারি ক্ষতিপূরণ না দিলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।-নিজস্ব চিত্র