


মস্কো: সংসদীয় নির্বাচনের মাঝে মস্কোয় ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালাল ইউক্রেন। জানা গিয়েছে, ১ হাজারের বেশি ড্রোন ছোড়ে জেলেনস্কি বাহিনী। এর জেরে কমপক্ষে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাশিয়ার একটি প্রধান তেল শোধনাগার। মুহূর্তে মধ্যে সেখানে আগুন ধরে যায়। আগুন নেভাতে দমকল কর্মীদের রীতিমতো বেগ পেতে হয়। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, এটাই রাশিয়ার উপর ইউক্রেনের সবথেকে বড়ো ড্রোন হামলা। ক্রেমলিনের অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া ভোট ভেস্তে দিতে এই হামলা চালিয়েছে কিয়েভ।
গত শুক্রবার থেকে রাশিয়ায় তিনদিনের সংসদীয় নির্বাচন শুরু হয়েছে। যুদ্ধে পুতিন বাহিনী যেসব অঞ্চলের দখল নিয়েছে, সেখানেও ভোটগ্রহণ চলছে। এরইমধ্যে শনিবার গভীর রাত থেকে মস্কোকে নিশানা করে কিয়েভ। আছড়ে পড়ে একের পর এক ড্রোন। মস্কোর মেয়র সার্জেই সোবিয়ানিন জানান, ১ হাজার ৬০০-র বেশি ড্রোন চিহ্নিত করে ধ্বংস করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘নির্বাচন বানচাল করতেই আচমকা হামলা চালানো হয়েছে। তবে শত্রুপক্ষ এই কাজে সফল হয়নি। ঘটনায় একটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হতাহতের কোনো খবর নেই।’ মস্কোর আঞ্চলিক গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিয়ভ জানান, দু’টি পৃথক এলাকায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘ড্রোন হামলায় একটি ২২ তলা বহুতলে আগুন লেগে যায়। ৪০০ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।’
এদিকে, হামলা চালানোর জন্য বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদামির জেলেনস্কি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘গত রাতে আমাদের দূরপাল্লার ড্রোন মস্কোর বড়ো ক্ষতি করেছে। রাশিয়ার প্রধান তেল শোধনাগারে হামলা চালানো হয়। এখান থেকেই যুদ্ধের জন্য কয়েকশো কোটি টাকা আসে।’
২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এই প্রথমবার সংসদীয় নির্বাচন হচ্ছে রাশিয়ায়। এই ভোটের মাধ্যমে বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিপুল সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি দেখিয়ে ক্রেমলিন বোঝাতে চায় যে, যুদ্ধের মধ্যেও মানুষ সরকারের পাশে আছে।