


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুক্রবার ধর্মতলায় নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে সাংবাদিকদের মারধর ও নিগ্রহের ঘটনায় ধৃতদের নিয়ে সোমবার দুপুর প্রায় ১২টার সময় ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল কলকাতা পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে মহম্মদ আফরোজ সহ বাকি ৫জনকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়।
পুলিশ প্রথমে অভিযুক্তদের মেট্রো চ্যানেল, ডোরিনা ক্রসিং হয়ে টিপু সুলতান মসজিদের সামনে পর্যন্ত খালি পায়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যায়। তদন্তকারীরা আন্দোলনের দিনের অশান্তি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না বা এই ঘটনায় কেউ উস্কানি দিয়েছিল কি না তা জানতে চাইলে কোনো বক্তব্য করেনি তারা। ধৃত ১১ জন একে অপরকে চেনে কি না তাও জানতে চায় তদন্তকারীরা কিন্তু তাতেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এর কিছু পর, দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ মহম্মদ আফরোজকে নিয়ে পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তাঁকে ডোরিনা ক্রসিং থেকে খালি পায়ে ও হাফ প্যান্ট পরিয়ে এলাকার একাংশ ঘোরানো হয়। সাংবাদিক নিগ্রহের সময়ের ভাইরাল ভিডিওতে তাঁকে দেখা যাওয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনও উত্তর দেননি।
শুক্রবারের প্রতিবাদ মিছিলে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ছয়জন সাংবাদিক আহত হন। অভিযোগ, মিছিল চলাকালীন তাঁদের মারধর ও হেনস্তার শিকার হতে হয়। ঘটনা প্রসঙ্গে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'সাংবাদিকদের উপর যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের সঙ্গে নিট পরীক্ষার্থীদের বা প্রতিবাদে অংশ নেওয়া সাধারণ আন্দোলনকারীদের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর দাবি, বাইরে থেকে ঢুকে পড়া দুষ্কৃতীরাই পরিকল্পিতভাবে মিছিলে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং যাদের চিহ্নিত করা হয়েছে, কাউকেই রেয়াত করা হবে না।' তার পরেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ আজ পর্যন্ত মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এই হামলার নেপথ্যে কোনও প্ররোচনা বা পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখছে লালবাজার।