


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: প্রার্থী ঘোষণা হতে না হতেই পদ্মবনে আগুন। আলিপুরদুয়ারে পরিতোষ দাসকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। আর তাতেই ক্ষুব্ধ গেরুয়া নেতাকর্মীরা। রাতেই জেলা পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালান স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। পার্টি অফিসেই তালাবন্ধ করে রাখা হয় জেলা সভাপতি মিঠু দাসকে।
এদিকে, শীতলকুচিতে দলের বর্তমান বিধায়ক বরেণ বর্মনকে প্রার্থী করল না বিজেপি। ওই আসনে টিকিট পেলেন সাবিত্রী বর্মন। বরেণকে প্রার্থী না করায় চরম ক্ষুব্ধ তাঁর অনুগামীরা। অন্যদিকে, পদ্ম পার্টির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় ফাঁকা রাখা হল ময়নাগুড়ি আসনটি। ফলে ঝুলে রইল এই কেন্দ্রের বর্তমান বিজেপি বিধায়ক কৌশিক রায়ের ভাগ্য। এছাড়াও দলের অন্দরে তীব্র কোন্দলের আশঙ্কায় উত্তরের একাধিক আসনে সোমবার প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি গেরুয়া শিবির। তবে কিছু আসনে ঝামেলা এড়াতে পুরনো মুখেই ‘ভরসা’ রেখেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
কোচবিহারের ৯টি আসনের মধ্যে এদিন চারটি কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করে বিজেপি। কোচবিহার উত্তরে সুকুমার রায়, তুফানগঞ্জে মালতি রাভাকে ফের টিকিট দেওয়া হল। দিনহাটা আসনে অজয় রায়কে প্রার্থী করেছে পদ্ম পার্টি।
দার্জিলিং জেলার সমতলে শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়া-খড়িবাড়িতে বর্তমান বিধায়কদের এবারও প্রার্থী করল বিজেপি। শিলিগুড়ি লাগোয়া জলপাইগুড়ি জেলার ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রেও টিকিট দেওয়া হয়েছে বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়কে। দলীয় সূত্রে খবর, অভ্যন্তরীণ কোন্দল চাপা দিতেই এই চার কেন্দ্রে প্রার্থী বদলের পথে হাঁটেনি পদ্ম পার্টি। যদিও এই আসনগুলিতে বিজেপির একাধিক নেতা এবার টিকিটের প্রত্যাশী ছিলেন। শিকে ছিঁড়তে পারে ভেবে জনসংযোগও শুরু করে দেন তাঁরা। শিখা চট্টোপাধ্যায়ের বয়সজনিত কারণকে সামনে এনে বিজেপির একটি অংশ এবার ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে দলের প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা দেখছিল। কিন্তু দলের অন্দরের খবর, টিকিট প্রত্যাশীর সংখ্যা একাধিক হওয়ায় শিখাদেবীর পরিবর্তে কাউকে প্রার্থী করা হলে ক্ষোভ চরমে উঠতে পারে। এমনটা ভেবেই প্রার্থী বদলের ঝুঁকি নেয়নি গেরুয়া শিবির। একই যুক্তিতে শিলিগুড়িতে শংকর ঘোষ, মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে আনন্দময় বর্মন এবং ফাঁসিদেওয়া-খড়িবাড়িতে দুর্গা মুর্মুকে এবারও প্রার্থী করা হয়েছে।
শিলিগুড়িতে শংকরের পরিবর্তে দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি প্রবীণ আগরওয়ালকে প্রার্থী করার জোরালো দাবি তোলে বিজেপির একটি অংশ। নমঃশূদ্র ও মতুয়া সম্প্রদায় থেকে মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে প্রার্থীর দাবি ওঠে বিজেপির অন্দরে। ফাঁসিদেওয়া-খড়িবাড়িতেও দুর্গা মুর্মুকে বদলের দাবিতে সরব হন বিজেপি কর্মীদের বড় অংশ। কিন্তু তা না হওয়ায় দলে কোন্দল মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কা। যদিও দার্জিলিং সহ চারটি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপির কো-অর্ডিনেটর রথীন বসু বলেন, কোনো কোন্দল নেই। বিশেষ কারণ না থাকলে জেতা আসনে আমাদের প্রার্থী বদল হয় না।
তবে পদ্ম নেতৃত্ব মুখে যাই বলুন না কেন, দলের ভিতর দ্বন্দ্ব এতটাই চরমে যে, জলপাইগুড়ি সদর আসনে এদিন প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি বিজেপি। মাল বিধানসভায় পছন্দসই প্রার্থী না হলে যে মেনে নেওয়া হবে না, দলের জেলা সভাপতিকে তা জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপির মণ্ডল সভাপতিরা। সেখানেও প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। নাগরাকাটায় বর্তমান বিধায়ক পুনা ভেংরাকে ফের টিকিট দেওয়া হল।
আলিপুরদুয়ারের পাঁচটি আসনের মধ্যে ফালাকাটা, কুমারগ্রাম ও কালচিনিতে বর্তমান বিধায়কদেরই এবারও প্রার্থী করেছে বিজেপি। আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রে টিকিট দেওয়া হয়েছে ব্যবসায়ী পরিতোষ দাসকে। এমপি মনোজ টিগ্গার নিজের এলাকা মাদারিহাটে প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। • আলিপুরদুয়ারে বিজেপি পার্টি অফিসে ভাঙচুর। - নিজস্ব চিত্র।