


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: উত্তরপাড়ার শুভম চট্টোপাধ্যায় বা রনিকে তাঁর স্বপ্নের আরও কাছে এনে দাঁড় করাল আর্জেন্তিনার আগ্নেয়পর্বত ওজোস দেল সালাদো। বৃহস্পতিবার তিনি ওই পর্বতে উঠেছেন। প্রায় তিন বছর আগে বিশ্বরেকর্ডের স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ২৬ বছরের শুভম। সবচেয়ে কমসময় ও কমবয়সে তিনি সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ও সাত আগ্নেয়পর্বত জয়ের লক্ষ্যমাত্রা রেখেছেন। ইতিমধ্যেই পা ফেলেছেন আফ্রিকার কিলিমাঞ্জারো ও ইউরোপের এলব্রুস(জুলাই, ২০২৪) পর্বতের শিখরে। বৃহস্পতিবার জয় হয়ে গেল ওজোস দেল সালাদো। স্বপ্নের আরও একধাপ কাছে এগিয়ে গেলেন শুভম।
জুলাইয়ে এলব্রুস পর্বত শিখরে ওঠার সময়ে গালের মাংস উঠে গিয়েছিল তুষার ঝড়ে। সেই ক্ষত নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন একটি স্টার্টআপ সংস্থার মালিক শুভম। তখনই বলেছিলেন, ‘আবার বেরিয়ে পড়ব। সময় বড় কম।’ তখন কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছিল তাঁর। গালের মাংসপেশি নাড়াতে পারছিলেন না। কিন্তু স্বপ্ন দেখা ছাড়েননি। সাহস আর দৃঢ়তা সঙ্গে নিয়ে একবছর আগে ছুঁয়ে ফেলেন আরও একটি পর্ব। ভিন দেশে থাকার কারণে বৃহস্পতিবার কথা বলার তেমন অবকাশ মেলেনি। শুধু বলেছিলেন, ‘ওজোস দেল সালাদো জয় হয়েছে। আরও অনেক শৃঙ্গ ও আগ্নেয়পর্বতে উঠতে হবে। নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। বাড়ি ফিরে পরিকল্পনা করব।’ তখন ত্রিশ ছুঁইছুঁই এই যুবকের কণ্ঠে ক্লান্তির থেকে বেশি ছিল উৎসাহ। যে উৎসাহ আর একাগ্রতা তাঁর মূল চালিকাশক্তি। স্বপ্ন দেখা শুধু নয় তা হাতের মুঠোয় পুরে ফেলতে অপেক্ষা করতে চান না। শুভমের পরিবার বলেছে, আর্জেন্তিনা ও চিলি সীমান্তে আছে আগ্নেয়পর্বত ওজোস দেল সালাদো। সেটির উচ্চতা প্রায় ছ’হাজার ৯৩০ মিটার। আন্দিজ পর্বতমালার ওই ভলক্যানো প্রায় ১৩০০ বছর আগে শেষবার জেগেছিল। স্পেনীয় ভাষায় ওজোস দেল সালাদোর অর্থ, লবণের চক্ষু। সম্প্রতি সেখানেই পৌঁছেছিলেন শুভম। প্রায় ১১ দিন ধরে কঠিন পথ অতিক্রম করে শেষে পৌঁছন শিখরে। প্রথম ভারতীয় হিসেবে ওই শিখরে দেশের পতাকা তুলেছেন। খুবই কম অক্সিজেন, দুর্গম পথ প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল। কিন্তু সেসব রুখে দিতে পারেনি এই স্বপ্নসন্ধানীকে। যিনি স্বপ্নের আরও একটি পর্ব ছোঁয়ার পর ফের দেখতে শুরু করেছেন নতুন এক স্বপ্ন।