


সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: দুর্গাপুজোর এক সপ্তাহ আগে থেকেই অচলাবস্থা শুরু হয়েছিল কালচিনির ভার্নাবাড়ি চা বাগানে। স্থায়ী ১১০০ শ্রমিককে ২০ শতাংশ হারে পুজোর বোনাস দিয়েছিল বাগান কর্তৃপক্ষ। কিন্তু স্টাফ, সাব স্টাফ ও অস্থায়ী ৫০০ শ্রমিককে পুজোর বোনাস না দিয়েই বাগান ছেড়ে চলে যান ম্যানেজার। তখন থেকে ভার্নাবাড়ি বাগান লকআউটের আশঙ্কা করছিল ট্রেড ইউনিয়নগুলি ও শ্রমিকরা। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হল।
লক্ষ্মীপুজো ও দীপাবলির মুখে আঁধারে ডুবল ভার্নাবাড়ি চা বাগান। লকআউটের নোটিস টাঙিয়ে শুক্রবার রাতে চুপিসারে বাগান ছাড়ল কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকালে কাজে যোগ দেওয়ার সময় বাগানের গেটে লকআউটের নোটিস দেখে শ্রমিকদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। বাগান ছাড়ার কারণ হিসাবে লকআউট নোটিসে শ্রমিকদের কর্মসংস্কৃতি ভঙ্গ, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্যকেই দায়ী করেছে ভার্নাবাড়ি কর্তৃপক্ষ।
যদিও ট্রেড ইউনিয়নগুলি ও শ্রমিকরা বাগান কর্তৃপক্ষের এই কারণ মানতে রাজি নয়। তাদের অভিযোগ, এসব অজুহাত মাত্র। আসলে বাগানের অস্থায়ী শ্রমিক, স্টাফ, সাব-স্টাফদের বকেয়া পুজো বোনাস ও শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি যাতে দিতে না হয়, তার জন্যই কর্তৃপক্ষ চলে গিয়েছে। শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, নভেম্বরে লিন পিরিয়ডে যাতে কাজ করতে না হয়, সেই উদ্দেশ্য নিয়েও কর্তৃপক্ষ বাগান ছেড়েছে। অনায্যভাবে বাগান ছাড়ার জন্য শ্রমিকরা কালচিনি থানায় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। বিজেপির চা শ্রমিক সংগঠন বিটিডব্লুইউ-ও বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার হুমকি দিয়েছে।
অন্যদিকে, ভার্নাবাড়ি বাগান বন্ধের ঘটনায় উদ্বিগ্ন এলাকার সাংসদ মনোজ টিগ্গা। তিনি বলেন, এভাবে পাওনাগণ্ডা না মিটিয়ে শ্রমিকদের ফেলে কেউ হঠাৎ করে বাগান ছেড়ে চলে যেতে পারে না। আমরা বিষয়টি দেখছি। বিটিডব্লুইউয়ের সাধারণ সম্পাদক রাজেশ বারলা বলেন, সংগঠনের তরফে ইতিমধ্যেই লকআউটের বিষয়টি রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংকে জানানো হয়েছে। আসলে নভেম্বর মাস থেকে শুরু হওয়া লিন পিরিয়ডে যাতে বাগানের কাজ করতে না হয়, তার জন্য কর্তৃপক্ষ চলে গিয়েছে। কিন্তু আমরা ছাড়ব না। আমাদের সংগঠনের তরফেও বাগান মালিকের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করা হবে। শ্রমদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, পুজোর ছুটির পর অফিস খুললেই ভার্নাবাড়ি বাগান খুলতে দ্রুত ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকা হবে।