


নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ‘সহজপাঠ’ কার লেখা? জানেন না। বিদ্যাসাগরের পুরো নাম? আমতা আমতা করে সেটাও শেষ পর্যন্ত বলতে পারলেন না। ব্ল্যাকবোর্ডে লিখতে বলা হলে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নামের বানান লিখলেন ‘ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসগর’। বিদ্যাসাগর কোথায় জন্মগ্রহণ করেছেন? আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললেন, বর্ধমান! যিনি এমন ঘটনা ঘটালেন, তিনি যেমন তেমন কেউ নন, পুরাতন মালদহের একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তনয় মিশ্র। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদে। চলতি মাসেই তাঁর মাথায় যুক্ত হয়েছে আরও একটি গর্বের মুকুট। এবারের শিক্ষক দিবসে রাজ্য সরকারের থেকে মালদহ জেলায় একমাত্র তিনিই ‘বিদ্যাসাগর পুরস্কার’ পেয়েছেন। এনিয়ে তাঁর অহংকারের শেষ নেই। অথচ সেই তিনিই যদি না জানেন, বিদ্যাসাগর কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন কিংবা ‘সহজপাঠ’ কার লেখা, তাহলে তো চর্চা হবেই। আর সেটাই হয়েছে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে নিয়ে করা সাধারণ কয়েকটা প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে মালদহের কাদিরপুর কিরণময়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যা উত্তর দিয়েছেন, সেটা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। আর এতেই লজ্জায় মুখ লুকোচ্ছেন শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিক থেকে জেলা প্রশাসনের কর্তারা। যদিও রবিবার সন্ধ্যায় টেলিফোনে ওই শিক্ষক বলেন, ‘আমার উত্তর এডিট করে ছড়ানো হচ্ছে। বিদ্যাসাগর লিখতে গিয়ে প্রথমে একটু ভুল হলেও সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করে নিই। কিন্তু ভুলটাই ছড়ানো হচ্ছে। স্কুলে টেনশনে ছিলাম। তাই কয়েকটা উত্তর একটু উলটো-পালটা হয়েছে। না হলে এগুলো তো সবার জানা।’ তখন পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছিলেন প্রধান শিক্ষক। সেখানেই হাজির হয় সংবাদমাধ্যম। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, সহজপাঠ কার লেখা? গুণী ওই শিক্ষকের উত্তর, কেন বিদ্যাসাগর! এরপর জানতে চাওয়া হয়, বিদ্যাসাগরের পুরো নাম ও পদবি কী? সেটাও বলতে ব্যর্থ হন ওই প্রধান শিক্ষক। এবার তাঁকে ব্ল্যাকবোর্ডে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর লিখতে বলা হলে দেখা যায়, তিনি ‘ঈশ্বরচন্দ্র’-এর ‘ঈ’-এর জায়গায় ‘ই’ এবং ‘বিদ্যাসাগর’ লিখতে গিয়ে ‘সগর’ লেখেন। কবিগুরুর সুপরিচিত ছড়া ‘কাল ছিল ডাল খালি/আজ ফুলে যায় ভরে’ কার লেখা জানতে চাইলে বিদ্যাসাগর পুরস্কার প্রাপ্ত ওই শিক্ষক বলেন, ‘মনে নেই।’ পর মুহূর্তে সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের লেখা ‘ছিপখান তিন-দাঁড়/তিনজন মাল্লা’ কবিতাটি কার লেখা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিদ্যাসাগর অনেক কবিতা লিখেছেন, এটিও তাঁর লেখা।’
এহেন শিক্ষককে নিয়ে মালদহ জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। দাবি উঠেছে, বিদ্যাসাগর নামের বানান ভুল লেখেন যে শিক্ষক কিংবা যিনি জানেন না বিদ্যাসাগর কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন, তাঁর থেকে ‘বিদ্যাসাগর সম্মান’ ফিরিয়ে নেওয়া হোক। জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক মলয় মণ্ডল ও অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা) সপ্তর্ষি নাগ বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। খতিয়ে দেখছি।’