


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ইতিহাসের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিপ্লবীদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে অভিহিত করল বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়। বুধবার স্নাতকের ষষ্ঠ সেমেস্টারের ইতিহাসের একটি প্রশ্ন ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। ১২ নম্বর দাগের সেই প্রশ্নটি হল, ‘মেদিনীপুরের তিনজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নাম কর, যাঁরা সন্ত্রাসবাদীদের দ্বারা নিহত হন।’ পরীক্ষা শেষে বিভিন্ন মহলে এনিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। শহিদের রক্তের বিনিময়ে দেশের স্বাধীনতা এসেছে। সেই শহিদদের কীভাবে সন্ত্রাসবাদী তকমা দিল একটি বিশ্ববিদ্যালয়, সেই প্রশ্ন উঠেছে। এনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদপত্রও পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৩১, ১৯৩২ ও ১৯৩৩ সালে পরপর তিনজন মেদিনীপুরের তৎকালীন অত্যাচারী ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট পেডি, ডগলাস ও বার্জকে হত্যা করেছিলেন বিপ্লবীরা। স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরও সেই শহিদদের বীরগাথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। অথচ, সেই বিপ্লবীদেরই ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ভূমিকা নিয়েও। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান বিপ্লবীদের সন্ত্রাসবাদী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এটি স্বাধীন ভারতে ইতিহাস চেতনা ও জাতীয় অনুভূতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করা বিপ্লবীদের সন্ত্রাসবাদী তকমা দেওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক। অবিলম্বে ইতিহাস বিভাগের এই ভুলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ইতিহাস বিভাগের প্রধানের কাছে এনিয়ে প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছি।’ কন্টাই পিকে কলেজের প্রিন্সিপাল অমিত দে বলেন, আমরা সবাই জানি, মেদিনীপুরের বিপ্লবীরাই অত্যাচারী শাসকদের হত্যা করেছিলেন। তাঁদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ আখ্যা দেওয়া ঠিক হয়নি। বিপ্লবী কিংবা মুক্তিযোদ্ধা লেখা উচিত ছিল।
বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রধান সুজয়া সরকারকে এনিয়ে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জয়ন্তকিশোর নন্দী বলেন, এটা ‘টাইপোগ্রাফিক্যাল এরর’। পরীক্ষা নিয়ামককে তদন্ত করে বৃহস্পতিবারের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।