


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন প্রতিটি কলেজে ফার্স্ট সেমেস্টারের ফর্ম ফিলআপে ৫০টাকা ‘অতিরিক্ত ফি’ নেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হল তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। এনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে চিঠি দিল পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক কলেজের টিএমসিপি ইউনিট। ২৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত অনলাইনে ফর্ম ফিলআপ শুরু হয়েছে। ফর্ম ফিলআপের জন্য রেগুলার ছাত্রছাত্রীদের ধার্য ফি ৬১৫টাকা। প্রত্যেক কলেজের অ্যাকাউন্টে ছাত্রছাত্রীরা ওই টাকা জমা করছেন। ওই ৬১৫টাকার মধ্যে কলেজ পাবে ৫০টাকা। বাকি ৫৬৫টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেবে সংশ্লিষ্ট কলেজ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক বিপ্লব চক্রবর্তী বলেন, কলেজের হেডে জমা পড়া ৫০টাকা নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হবে।
টিএমসিপি সংগঠনের দাবি, কলেজের হেডে জমা পড়া ৫০টাকা বাড়তি নেওয়া হবে। ল্যাব পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ৪০টাকা এবং ফর্ম রিসিভ, স্ক্রুটিনি ও ছাত্রছাত্রীদের গাইড করার জন্য আরও ১০টাকা দিতে হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে। প্রতি বছর ছাত্রছাত্রীরা ভর্তির সময় কলেজে নানা খাতে টাকা জমা করেন। এখন ল্যাব পরীক্ষার আয়োজনের জন্য ৪০টাকা এবং ফর্ম পূরণের সহায়তার জন্য ১০টাকা নেওয়াটা বাড়তি বোঝা। প্রতি সেমেস্টারে এভাবে চলতে থাকলে আখেরে কলেজের লাভ হলেও সমস্যায় পড়বেন ছাত্রছাত্রীরা। তাই কলেজের হেডে যে ৫০টাকা দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে তা প্রত্যাহার করা হোক।বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন তিন জেলায় মোট ৫৪টি কলেজ রয়েছে। তাতে কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী আছেন। প্রতিটি সেমেস্টারে ৫০টাকা করে নিলে তাতে কলেজ লাভবান হবে। উল্টে ছাত্রছাত্রীরা ভুক্তভোগী হবেন। এই মর্মে পূর্ব মেদিনীপুরের দেশপ্রাণ কলেজ, কাঁথি পিকে কলেজ, এগরা সারদা শশীভূষণ কলেজ, মাতঙ্গিনী হাজরা উইমেন্স গভর্নমেন্ট কলেজ সহ বহু কলেজের টিএমসিপি ইউনিটের পক্ষ থেকে উপাচার্যকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, ল্যাব পরীক্ষার দিন বাইরে থেকে অধ্যাপকরা আসেন। তাঁদের খাওয়া দাওয়া বাবদ খরচ হয়। সেজন্য ল্যাব পরীক্ষার প্রস্তুতি বাবদ ছাত্রছাত্রীদের থেকে ৪০টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ফর্মপূরণে সাহায্য করার জন্য মাথাপিছু ১০টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। সেটা বিভিন্ন কলেজের অশিক্ষক কর্মীদের দেওয়া হয়। আবার কোনও কোনও কলেজের অশিক্ষক কর্মীরা ওই টাকা নেন না।
টিএমসিপির তমলুক সাংগঠনিক জেলা সহ-সভাপতি অতনু সামন্ত ও দেশপ্রাণ কলেজের ইউনিট সভাপতি নিমাই দাস বলেন, ছাত্রছাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত ফি মকুব করার দাবি জানিয়েছি। আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সহানুভূতির সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা করবেন।