


বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: একসময় তার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ভিয়েতনাম টাইম বম্ব’। ভিয়েতনাম ফেরত মার্কিনদের মধ্যে রোগটির প্রাদুর্ভাব দেখা যেত। আশ্চর্যজনক ঘটনা হল, সুপ্ত আগ্নেয়গিরির মতো কোনও লক্ষণ ছাড়াই মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, এমনকি দশকের পর দশক রোগীর শরীরে ঘাপটি মেরে থাকত। রোগী জানতেও পারতেন না, কালান্তক যম বাসা বেঁধেছে তাঁর শরীরে! ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে সংক্রামিত এই মারাত্মক রোগটির নাম মেলায়ডসিস। পিজি হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেশ কিছু মেলায়ডসিস রোগীর সন্ধান মিলেছে। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল, এছাড়াও মেলায়ডসিসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, তার আচার-আচরণ সবই টিউবারকুউলসিস বা যক্ষ্মার মতো। বাইরের রোগ-লক্ষণ দেখে দু’টি রোগকে আলাদা করতেই কালঘাম ছুটে যায় বহু পোড় খাওয়া চিকিৎসকের। তাই এবার ‘ভিয়েতনাম টাইম বম্ব’-এর সচেতনতায় কর্মশালার আয়োজন করছে স্বাস্থ্যদপ্তর। ১৯ জানুয়ারি স্বাস্থ্যভবনের ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ারে হবে এই কর্মশালা।
চিকিৎসক মহল সূত্রের খবর, জঙ্গল, ঝোপঝাড়, চাষাবাদের জায়গায় এই রোগ বেশি সংক্রামিত হয়। গ্রামীণ এলাকায় চাষি ও দিনমজুরদের মধ্যে সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি। প্রাথমিকভাবে রোগটিকে দেখে অজানা জ্বর বলেই মনে হয়। কিন্ত সেই জ্বর যেন কমার নামই নেয় না! এক বছর ধরেও চলতে পারে। জ্বরের পাশাপাশি কাশি ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোঁড়া হতে আরম্ভ করে। চিন্তার ব্যাপার হল, ফোঁড়া শুধু বাইরে নয়, ফুসফুস, কিডনি, লিভার, স্পিন বা প্লিহা সহ অভ্যন্তরীণ অঙ্গেও হয়। সময়ে চিকিৎসা শুরু না হলে সংক্রমণ ছড়ায় মস্তিষ্কে। বহু ক্ষেত্রে এই রোগকে টিবি বলে ভুল হয়। পরে টিবি রিপোর্ট নেগেটিভ পাওয়া যায়। আক্রান্ত হওয়ার কোনও বয়সসীমা নেই। ৮ থেকে ৮০— সব বয়সেই হতে পারে। কোনও টিকা নেই, তবে ওষুধ আছে। আর সেজন্য দরকার দ্রুত চিকিৎসা।
পিজি হাসপাতালে সংক্রামক রোগবিদ্যা বিভাগের প্রধান ডাঃ যোগিরাজ রায় বলেন, ‘এই রোগের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের তো বটেই, চিকিৎসকদেরও চোখ-কান খোলা রাখা দরকার। এবছর দক্ষিণ ভারতে প্রচুর কেস পাওয়া গিয়েছে। আমরাই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৭-৮ জনের চিকিৎসা করলাম। সমস্যা হল, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাসের পর মাস জ্বর ছাড়া অন্য কোনও লক্ষণ থাকে না বলে রোগীও ডাক্তার দেখানোর ব্যাপারে গরজ বোধ করেন না। জ্বর দু’সপ্তাহের বেশি টানা চললে একেবারে হেলাফেলা করবেন না। সোজা হাসপাতালে চলে আসুন।’