


সকালের দিকেও রাস্তার মোড় থেকে নির্দিষ্ট বাড়িটা দেখা যাচ্ছিল। দুপুরে ওইটুকু চত্বরে তখন কেবল কালো মাথার ভিড়। শববাহী গাড়ি ঢুকছে খবর ছিল আগেই। ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মী, বন্ধু, স্বজন, প্রতিবেশীরা এসেছিলেন শেষবার বাবিনকে দেখবেন বলে। দুপুর তিনটে নাগাদ নিথর রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় এলেন বিজয়গড়ের পাড়ায়। শেষবার। গতরাত থেকে থমথমে ছিল পাড়াটা। এবার নিস্তব্ধতা কাটিয়ে সেখানে কান্নার রোল উঠল।
তালসারির সমুদ্র কেড়ে নিয়েছে রাহুলের প্রাণ, বিশ্বাসই হচ্ছে না পরিজনদের। বাড়ির ভিতরে অপেক্ষায় ছিলেন রাহুলের মা, স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং পুত্র সহজ। পরিবারের তরফে এমন কঠিন পরিস্থিতিতে সহজের প্রতিক্রিয়া ক্যামেরাবন্দি না করার অনুরোধ জানানো হয়। প্রায় একঘণ্টা পর রাহুলের মরদেহ নিয়ে গাড়ি রওনা দিল কেওড়াতলার উদ্দেশ্যে। বিকেলে অভিনেতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
বামপন্থায় বিশ্বাসী রাহুলের শেষযাত্রায় মিলে গিয়েছিল রাজনীতির সব রং। ঘটনার দিন রাতেই দক্ষিণ কলকাতার বিজয়গড়ের বাড়িতে পৌঁছন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, বামনেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। সোমবার সকালেই সেখানে যান বিজেপি নেত্রী পাপিয়া অধিকারী। দুপুরে পৌঁছন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। দলমত নির্বিশেষে একাধিক রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন রাহুলের শেষযাত্রায়। ইস্টবেঙ্গল এবং আর্জেন্তিনার ভক্ত ছিলেন রাহুল। তাঁর শববাহী গাড়িতে দেওয়া হয় প্রিয় দুই দলের পতাকাও।
প্রতিভাবান শিল্পীকে হারিয়ে হাহাকার করছেন টলিউডের শিল্পীরা। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, সব্যসাচী চক্রবর্তী, রূপাঞ্জনা মৈত্র, চৈতী ঘোষাল, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায়, অঙ্কুশ হাজরা, রুকমা রায়ের মতো একাধিক তারকা শিল্পীরা ‘প্রিয় বন্ধু’কে শেষ বিদায় জানাতে এসেছিলেন। কোচবিহারের চান্দামারিতে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকায় কলকাতায় আসতে পারেননি দেব। তিনি বলেন, ‘বাংলা দর্শক ও ইন্ডাস্ট্রির বড় ক্ষতি হল। খুব তাড়াতাড়ি চলে গেল রাহুল।’
রাহুলের মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন ঘিরে রেখেছে ইন্ডাস্ট্রিকে। শ্যুটিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব বহু শিল্পী।