


সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লি মেলার মাঠে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। মাঠের খোলা অংশগুলি তারের জাল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। এমনকী, মাঠে যাওয়ার রাস্তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র খেলাধুলা ও শরীরচর্চার জন্য একটি সংকীর্ণ গেট রাখা হয়েছে। এরজন্য নির্দিষ্ট সময়ও বেঁধে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, এভাবে বিশ্বভারতী নিজের সীমানা ঘিরে দেওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পড়ুয়ারা, যা রবীন্দ্রনাথের মুক্তচিন্তার বিরোধী। বিশ্বভারতীর মতো ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা কাম্য নয় বলেও প্রাক্তনী ও আশ্রমিকদের অভিমত।
বিশ্বভারতীর আশ্রম সঙ্গীতে উল্লেখ রয়েছে, ‘মোদের তরুমূলের মেলা, মোদের খোলা মাঠের খেলা, মোদের নীল গগনের সোহাগ-মাখা সকাল-সন্ধ্যাবেলা।’ অথচ আশ্রমের মূল আদর্শ ও ভাবনার বিপরীতধর্মী কার্যকলাপ শুরু করেছে বর্তমান কর্তৃপক্ষ, এমনই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রাক্তনীদের।
প্রসঙ্গত, বিশ্বভারতীর পূর্বপল্লির মাঠ একসময় পুরোপুরি উন্মুক্ত ছিল। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার যুক্তিতে ২০২০সালে মাঠের চারদিকে পাঁচিল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। পাঁচিল তোলার কাজ শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভে সৃষ্টি হয়। সেবছর ১৭আগস্ট পাঁচিল তোলাকে কেন্দ্র করে মাঠে ধুন্ধুমার কাণ্ড হয়। জেসিবির সাহায্যে মাঠের মূল ফটক ভেঙে ফেলা হয়। তবে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে পরবর্তীতে পাঁচিল তোলে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি মেলার মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে ফটকও বসানো হয়। কিন্তু সীমানার পাঁচিল দিলেও প্রবেশের কোনও নিষেধাজ্ঞা ছিল না। তবে বর্তমান কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ জারি করায় প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়েছে ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে।
বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল ৫টা থেকে ৮টা, বিকেল ৪টে থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মাঠে ঢোকা যাবে। অন্য সময় সাধারণ মানুষ ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য মাঠ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। ভুবনডাঙার প্রবীণ বাসিন্দা ভদ্রচন্দ্র দলুই বলেন, ছোট থেকেই এই মাঠে শরীরচর্চা করে আসছি। এই মাঠ ঘিরে আমাদের আবেগ রয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ যেভাবে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করছে তা হতাশাজনক। পূর্বপল্লির বাসিন্দা সদাই দাস বলেন, সন্ধ্যাবেলা কাজ সেরে এখানে বসে ঠান্ডা হাওয়ায় আড্ডা দিই। এখন সেই অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বভারতীর এক ছাত্র বলেন, আমাদের অনেকেই ভাষাভবন ও বিদ্যাভবনের আবাসিক। ক্লাস শেষে দুপুরে ও সন্ধ্যায় মাঠে আড্ডা দিতাম। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কড়াকড়িতে ক্যাম্পাসে নিজেদেরই ‘পর’ মনে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, মেলার মাঠে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নেশার উপদ্রব বন্ধ করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সকলের সহযোগিতা কাম্য।