


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বাম রাজনীতিতে কুম্ভ হয়ে একা গড় রক্ষা করে চলেছে দক্ষিণী রাজ্য কেরল। এবার সেই কেরলই যদি হাতছাড়া হয়ে যায়? তাহলে রাজ্যস্তরে তো বটেই। এমনকি জাতীয় স্তরেও সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে সিপিএম তথা বামেরা। কারণ এককালের বাম দুর্গ হিসাবে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরায় সিপিএম ধরাশায়ী হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগেই। এই পরিস্থিতিতে সিপিএমের আশার আলো জ্বালিয়ে রেখেছে একমাত্র কেরল। অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন সিপিএম তথা এলডিএফ সরকার। আজ, সোমবার ফলাফল প্রকাশিত হবে কেরলের বিধানসভা ভোটের। নির্বাচনি ফল প্রকাশের প্রাক্কালে তাই প্রবল আশঙ্কার মেঘ দানা বেঁধেছে বাম শিবিরে। সিপিএম নেতারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন আজ, সোমবার ভোটের ফলাফলের জন্য। কেরলে বিগত ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ সরকার। সাধারণত কেরলের প্রবণতা হল, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর শাসক দল পরিবর্তন করা। অর্থাৎ, এবছর কংগ্রেস, তো পরের বার সিপিএম। একটানা দু’টো টার্ম এলডিএফ সরকারের কেরলে ক্ষমতায় থেকে যাওয়া তাই এমনিতেই উল্লেখযোগ্য। এই পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের নির্বাচনে যদি তৃতীয়বারের জন্য কেরলের শাসন ক্ষমতায় আসে বামেরা, তাহলে অন্তত দক্ষিণী রাজ্যের রাজনীতিতে তা রেকর্ড হিসাবেই গণ্য হবে। কিন্তু আদৌ কি হবে ‘হ্যাটট্রিক’? গত ২৯ এপ্রিলের বুথফেরত সমীক্ষায় কেরলে তেমন ইঙ্গিত মেলেনি। এক্সিট পোলের ফলাফল নিয়ে বিশেষ আগ্রহ নেই বাম রাজনীতির কারবারিদের। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হল, এমনকি সিপিএমের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নেও কেরলে ‘হ্যাটট্রিকে’র পূর্বাভাস সেভাবে মেলেনি! তাই রীতিমতো সংশয়ে রয়েছেন নেতারা। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এ কে গোপালন ভবন সূত্রেও খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী বার্তা পাননি কেরলের দলীয় নেতৃত্ব। সিপিএমের অন্দরেই মনে করা হচ্ছে, এবার কেরল নির্বাচনে অন্যতম বড়ো ইস্যু হয়ে উঠেছে সবরীমালা মন্দিরের সোনা চুরির ঘটনা। সরাসরি এই কাণ্ডে সরকারের নাম না জড়ালেও তারা যথেষ্টই ব্যাকফুটে। রাজ্যজুড়ে নির্বাচনি প্রচারেই তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।