


সংবাদদাতা, বোলপুর : প্রযুক্তির যুগে বদলেছে ভোট প্রচারের ধরন। এখন দেওয়াল লিখন, লিফলেট ছড়ানোর পাশাপাশি ডান থেকে বাম প্রতিটি দলই জোর দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ডিজিটাল কনটেন্টের উপর। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে এই ধরনের চমক প্রচার বলতে গেলে সত্যিই পাবলিক খাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বীরভূম জেলায় এআই-নির্ভর প্রচারের মাধ্যমে এখন রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র আকার নিয়েছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থী, তাঁদের নির্বাচনি কর্মসূচি, আগামীর পরিকল্পনা এমনকী, শাসকদলের দুর্বল দিকগুলি সবকিছুই তুলে ধরা হচ্ছে এই ডিজিটাল কনটেন্টের মারফত। ফলে প্রচার এখন শুধু বক্তব্য বা সভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভোট প্রচার এখন অনেক বেশি বিশ্লেষণধর্মী ও লক্ষ্যভিত্তিক হয়ে উঠছে। জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ মুখ অনুব্রত মণ্ডল বর্তমানে তারকা প্রচারক হিসেবেই পরিচিত। তাঁকে কেন্দ্র করে একাধিক এআই-নির্মিত পোস্টার, গ্রাফিক্স ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে, যা কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে একপ্রকার উন্মাদনা তৈরি করছে। একইভাবে তৃণমূলের বিভিন্ন প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারের পোস্টারও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেয়ে গিয়েছে।
অন্যদিকে, বোলপুরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষও এই এআই ভিত্তিক প্রচারে পিছিয়ে নেই। পদ্মের এই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির বিভিন্ন প্রচার কৌশলের অংশ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এআই-তৈরি পোস্টার ও ডিজিটাল কনটেন্ট ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। যা নিয়ে তৃণমূলের কটাক্ষ, ওদের মাঠে, ময়দানে কর্মী, সমর্থক নেই। তাই ওসব ছবি দিয়ে প্রচুর লোকের সমাগম দেখাচ্ছে।
অন্যদিকে সিপিএম এই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছে তাঁদের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরার হাতিয়ার হিসেবে। তাঁরা ক্ষমতায় এলে আগামী দিনে মানুষের জন্য কী, কী পরিকল্পনা রয়েছে, কোন, কোন প্রকল্পের বাস্তবায়ন হবে এসব বিষয়কে এআই-নির্ভর গ্রাফিক্স ও কনটেন্টের মাধ্যমে তুলে ধরছে সাধারণ মানুষের সামনে।
কংগ্রেস অনেক কেন্দ্রে এখনও পুরো মাত্রায় ময়দানে প্রচার শুরু না করলেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় হতে শুরু করেছে। এআই-এর মাধ্যমে প্রার্থীদের ছবি, সম্ভাব্য জন সমাগমের চিত্র ও প্রচারের ভিজ্যুয়াল তৈরি করে আগাম আবহ তৈরির চেষ্টা করছে তাঁরা।
জানা গিয়েছে, ভোট প্রচারে এই মাধ্যম ব্যবহারের ফলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে। আগে যেখানে একটি পোস্টার বা স্লোগান তৈরি করতে সময় ও শ্রম লাগত, এখন সেখানে মুহূর্তের মধ্যে বহু ডিজিটাল পোস্ট, ভিডিও বা ব্যঙ্গচিত্র তৈরি সম্ভব হচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে রয়েছে উদ্বেগও। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই নির্ভর ভুয়ো ভিডিও বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি
তৈরি হতে পারে। তাই সচেতনতা ও নজরদারি দুই-ই জরুরি হয়ে
উঠেছে।