


মণিরাজ ঘোষ, খড়্গপুর: তীব্র গরম আর সংসারের কাজকর্মের চাপ, সবকিছু উপেক্ষা করেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বুথে বুথে মহিলা ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা গেল জেলার সর্বত্র। খড়্গপুর শহর, গ্রামীণ থেকে ডেবরা, সবং, পিংলা সর্বত্র মহিলা ভোটারদের উৎসাহ, উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। যা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছে শাসক-বিরোধী দু’ পক্ষই। তবে, মহিলাদের ভোট দেওয়ার এই আগ্রহ যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে, শাসকদলের প্রার্থীদের মুখে দেখা গিয়েছে চওড়া হাসি। আশায় বিরোধী শিবিরও।
এদিন সাতসকালেই খড়্গপুর গ্রামীণের মোহনপুর, বড়কলা, সালুয়া, খড়্গপুর শহরের ইন্দা, খরিদা, মালঞ্চ, নিউ সেটেলমেন্টের বিভিন্ন বুথে মহিলা ভোটারদের আধিক্য চোখে পড়ে। একই ছবি ডেবরা, সবং, পিংলাতেও। এদিন দুপুর একটার মধ্যেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোট পড়ে যায়। সকাল ন’টা নাগাদ খড়্গপুর শহরের বড়াবাত্তি কালীমন্দিরে সস্ত্রীক পুজো দিয়ে, ৮ নং ওয়ার্ডের ৪৭ নং বুথে ভোট দেন তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার। সেই সময় ওই বুথে মহিলাদের লম্বা লাইন। ভোট দেওয়ার পর বিভিন্ন বুথ পরিদর্শনে বের হন প্রদীপ। ট্রাফিক প্রাইমারি স্কুল, রেলওয়ে বয়েজ স্কুল, অন্ধ্রা হাই স্কুল সর্বত্র মহিলা ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ট্রাফিক স্কুলের মডেল বুথে হুইল চেয়ারে করে ভোট দিতে এসেছিলেন পদ্মাবতী নামে এক বৃদ্ধা। তাঁকে সহযোগিতা করেন বাহিনীর জওয়ানরা। তিনি বলেন, নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করলাম। খুব ভালো লাগছে।
সকাল দশটা নাগাদ, নিজের বাড়ির পাশেই ভিকনি নিশ্চিন্তপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে সস্ত্রীক ভোট দেন সবংয়ের তৃণমূল প্রার্থী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া। ভোট দিয়ে বেরিয়ে মানসবাবু বলেন, বাংলায় শান্তিপূর্ণ ভোট হয়। দেখুন মহিলাদের লাইন। আনন্দের সঙ্গে তাঁরা ভোট দিচ্ছেন। ডেবরাতেও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেবরার তৃণমূল প্রার্থী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল থেকে রাধামোহনপুর, বালিচক ও ডেবরার বিভিন্ন বুথে ছুটে বেড়ান তিনি। লাইনে দাঁড়ানো মহিলা ভোটাররা রাজীববাবুকে দেখে হাসিমুখে সাড়া দেন। পাল্টা তাঁদের নমস্কার করেন রাজীববাবু। তিনি বলেন, মহিলাদের মধ্যে অভূতপূর্ব উৎসাহ লক্ষ্য করলাম। খুব ভালো ভোট হয়েছে। ডেবরার বিজেপি প্রার্থী শুভাশিস ওম বলেন, বিভিন্ন বুথে ৯০ থেকে ৯৮ শতাংশ অবধি ভোট পড়েছে। সাধারণ মানুষ নীরবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তৃণমূলের বিদায়ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। পিংলা বিধানসভার মাদপুর, চাঙ্গোয়াল প্রভৃতি বুথ পরিদর্শন করেন তৃণমূল প্রার্থী অজিত মাইতি। তিনি বলেন, উচ্ছ্বাসের সঙ্গে মহিলারা ভোট দিয়েছেন। দুপুরের পর পিংলার বিভিন্ন এলাকায় বিজেপিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন অজিতবাবু। পিংলার বিজেপি প্রার্থী স্বাগতা মান্না বলেন, সকালের দিকে বিভিন্ন অভিযোগ আসছিল। পরে মানুষই রুখে দাঁড়িয়েছেন। খুব ভালো ভোট হয়েছে। আমরা আশাবাদী। ভোটদানের হার এবং মহিলা ভোটারদের উৎসাহ, এ নিয়েই এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে দুই শিবিরে।