


সৈয়দ নিজাম, নাগরাকাটা: নির্বাচনের আবহে দু’মাস ধরে মজুরি আমিল। এমন অবস্থায় ক্ষোভে ফুঁসছেন বানারহাট ব্লকে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন চারটি চা বাগানের ৯৮০০ শ্রমিক। চুনাভাটি, নিউ ডুয়ার্স, বানারহাট ও কারবালা এই চারটি বাগানের শুধু শ্রমিকরা নন, স্টাফ ও সাবস্টাফরাও গত দু’মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। এদিকে, বকেয়ার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। কাজ করেও টাকা না পেয়ে শ্রমিকরা দুই বেলার পরিবর্তে এক বেলা কাজ করছেন। বাকি একবেলা তাঁরা অন্যত্র কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। অনেকে চা বাগান ছেড়ে ভিনরাজ্যে কাজের সন্ধানে চলে গিয়েছেন।
আর এনিয়ে তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের বানারহাট ব্লক সভাপতি বিধান সরকারের অভিযোগ, বিজেপি সমস্ত জায়গায় গিয়ে প্রচার করছে বাংলায় ক্ষমতায় এলে রাজ্যের সমস্ত চা বাগানের সমস্যা মেটাবে। কিন্তু আদতেই দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন ডুয়ার্সের চারটি চা বাগানের শ্রমিকরা কতটা যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
ভারতীয় টি ওয়ার্কার ইউনিয়নের সেন্ট্রাল কমিটির সহ সভাপতি অমরনাথ ঝা বলেন, বাংলায় ক্ষমতায় এলে চা বাগানের সমস্যা মিটে যাবে, কারণ তখন এই রাজ্যে ডবল ইঞ্জিনের সরকার চলবে। ওই চারটি বাগান নিয়ে আমাদের কথা শুনতে হচ্ছে ঠিকই, আমরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে সব জানিয়েছি।
কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এই চারটি চা বাগানের সমস্যা নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই বাগানের শ্রমিকরা বকেয়া পাচ্ছেন না। গত একবছর ধরে পিএফের টাকা কেটে নিলেও তাঁদের পিএফ অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি বলে অভিযোগ। ন্যূনতম স্বাস্থ্য পরিষেবাও পান না শ্রমিকরা। শ্রমিকদের জ্বালানি সরবরাহ বহুদিন থেকেই বন্ধ হয়ে আছে।
চুনাভাটি চা শ্রমিক রঞ্জিতা ওরাওঁ বলেন, বাগানে বিজেপির নেতারা এসেছিলেন ভোট প্রচার করতে। কিন্তু আমরা তাঁদের ফিরিয়ে দিয়েছি। আমরা তাঁদের প্রশ্ন করেছিলাম, কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন চা বাগান হলেও মজুরি পাচ্ছি না কেন? মজুরি না পেলে কীভাবে আমরা চলব? কিন্তু কোনো উত্তর পাইনি। একই কথা বলেন নিউ ডুয়ার্স বাগানের সাবস্টাফ বাবুন গোপ।
উল্লেখ্য স্থায়ী ও অস্থায়ী নিয়ে চুনাভাটিতে ১৮০০, নিউ ডুয়ার্সে ৩০০০, বানারহাট চা বাগানে ২২০০, কারবালাতে ২৮০০ শ্রমিক রয়েছেন।