


নয়াদিল্লি: রাজধানীর ঠিক কোন জায়গাকে নিশানা করতে চেয়েছিল জঙ্গিরা? দিল্লির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেস বা অক্ষরধাম মন্দিরের কাছে হামলা চালানোর কষেছিল তারা? আপাতত এসব প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের ভাবাচ্ছে ঘাতক আই-২০ গাড়ির রুটম্যাপ।
হরিয়ানার ফরিদাবাদের এশিয়ান হাসপাতালের সামনে থেকে সাদা রঙের আই-২০ গাড়িটি নিয়ে বেরিয়েছিল ডাঃ উমর উন নবি। বদরপুর টোল বুথ পেরিয়ে দিল্লিতে ঢোকে সে। সেখান থেকে প্রথমে ময়ূর বিহারের দিকে গাড়ি ঘুরিয়েছিল উমর। এই ময়ূর বিহারেই রয়েছে অক্ষরধাম মন্দির। সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ময়ূর বিহার থেকে সরাসরি পুরোনো দিল্লিতে যাওয়ার বদলে গাড়ি ঘুরিয়ে কনট প্লেসের দিকে রওনা হয় উমর। ময়ূর বিহার থেকে হঠাৎ কনট প্লেসের কেন গাড়িটি ঘোরানো হয়েছিল, সেটাই বিষয়টি ভাবাচ্ছে গোয়েন্দাদের। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি দিল্লির এই প্রাণকেন্দ্রে আত্মঘাতী জঙ্গি হানার ছক ছিল? কনট প্লেসে গাড়িটি কোথায় কোথায় গিয়েছিল, তা জানতে ওই চত্বরের সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সোমবার সকাল আটটা নাগাদ আই-২০ গাড়ি নিয়ে দিল্লিতে ঢোকে ওমর। সন্ধ্যা সাতটার কিছু আগে পার্কিং লট থেকে বেরয় গাড়িটি। লালকেল্লার কাছে ইউ-টার্ন নিয়ে সুভাষ মার্গে লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের এক নম্বর গেটের কাছে পৌঁছতেই বিস্ফোরণ। কেঁপে ওঠে রাজধানীর লালকেল্লা মেট্রো স্টেশন চত্বর। কিন্তু দিল্লিতে ঢোকার পর থেকে দুপুর পর্যন্ত দরিয়াগঞ্জ, কাশ্মীরী গেট, সুনেহরি মসজিদের কাছে বিভিন্ন সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সাদা রঙের আই-২০ গাড়িটির গতিবিধি। পার্কিং লটে প্রায় ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর গাড়িটি নিয়ে বের হয় উমর। প্রশ্ন উঠছে, কেন উমর দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় গাড়িটি নিয়ে ঘুরেছিল আর পার্কিং লটে ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিল? সে কি কারও গ্রিন সিগন্যালের জন্য অপেক্ষা করছিল? নাকি কোথায় হামলা করা হবে, তা ঠিক করার জন্য সে ৩ ঘণ্টা সময় নিয়েছিল? এসব প্রশ্নের উত্তরও খুঁজছেন গোয়েন্দারা।