


সংবাদদাতা, চাঁচল: রাস্তায় হাঁটু জল। সেই জল পার হয়ে চলাচল করতে গিয়ে অতিষ্ঠ গ্রামের শতাধিক পরিবার। জলনিকাশি থমকে যাওয়ায় জনজীবন বিঘ্নিত হচ্ছে। একাধিকবার বিক্ষোভ ও প্রশাসনের কাছে আবেদনের পরেও এলাকার নিকাশি সমস্যার সুরাহা হয়নি। জল যন্ত্রণা নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বাসিন্দারা। চাঁচল-১ ব্লকের টেংরিয়াপাড়ায় তিন মাথা মোড়ে ৩০০ মিটার জুড়ে জল থই থই করছে। বৃহস্পতিবার রাতে এক ঘণ্টা বৃষ্টির জেরে শুক্রবার সারাদিন রাস্তায় জল আটকে থাকে।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জল কমতে এক সপ্তাহ লেগে যাবে। ওই এলাকায় ৫০টিরও বেশি ছোট বড় বিভিন্ন রকমের দোকান রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দোকান চালাতে নাজেহাল হয়ে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। শুধু তাই নয়, বয়স্ক ও শিশুরা ভয়ে হাঁটু সমান জলে রাস্তায় হাঁটা বন্ধ করেছেন। এমনকী মোটর বাইকের ধোঁয়ার পাইপে জল ঢুকে পড়ছে। ওই এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ। জমা জল থেকে মশার উপদ্রব বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, যানবাহন চলাচলের সময় নোংরা জল উপচে বাড়িতে ঢুকছে। মূলত ভৌগোলিক অবস্থানে জল নিকাশি হওয়ার কথা এলাকার উত্তরপ্রান্তে। পঞ্চায়েতের দাবি, কিছু মানুষ মাটি ভরাট করে রাখায় এই সমস্যা।
স্থানীয় বাসিন্দা সাদির আলি বলেন, সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটু সমান জল আটকে রয়েছে। বর্ষা নামলে আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। বর্তমানে এই জমা জলে গোটা এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। এক ব্যবসায়ী আমির সোহেল বলেন, গত বর্ষায় নিকাশি ব্যবস্থার দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছিল। নিকাশির জন্য প্রশাসনের তরফে পাম্প মেশিন দেওয়া হয়। সেটিও বর্তমানে বিকল হয়ে রয়েছে। নিকাশিনালা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এক বছরেও কাজ হয়নি। এপ্রসঙ্গে মকদমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রুমা বিবি বলেন, ওই এলাকায় নিকাশি নালা নির্মাণের জন্য মালদহ জেলা পরিষদ উদ্যোগী হয়েছে। শুনেছি দ্রুত কাজ শুরু হবে। অস্থায়ীভাবে জল নিকাশির জন্য পাম্প দেওয়া হয়েছে।