


তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। কাজকর্মে মেল আইডি থাকা আবশ্যক। মোবাইলের মতোই আমজনতার অফিসিয়াল যোগাযোগের এক মাধ্যম ইমেল। মেল পরিষেবা দেয় এমন এক জনপ্রিয় ও সর্বাধিক ব্যবহৃত সংস্থা জি মেল। কিন্তু কেউ যদি নিয়মিত নানা কাজে মেল ব্যবহার করেন ও মেসেজ ডিলিট করতে অভ্যস্ত না হন, তাহলে অবধারিতভাবে তাঁর একদিন স্টোরেজে স্পেস সমস্যা তৈরি হবে।
কী এই সমস্যা?
জিমেলের ইনবক্স অসীম বা ইনফিনিটি স্টোরেজ সমৃদ্ধ নয়। অর্থাৎ জি মেল সহ নানা ই মেল পরিষেবাকারী সংস্থা একটা নির্দিষ্ট জিবি পর্যন্ত বিনামূল্যে স্টোরেজ ব্যবহার করতে দেয়। সেটি অতিক্রম করে গেলে তখন পকেটে চাপ পড়ে। প্রয়োজনীয় টাকা দিয়ে প্রতি মাসের জন্য স্পেস কিনতে হয়। কোনও কোনও সংস্থা প্রথম তিন মাসের জন্য কিছু অফার দিলেও শেষ পর্যন্ত খরচটি প্রতি মাসেই করতে হয়। স্পেস ফুরিয়ে যাওয়ার মুখে, সংস্থার নোটিফেকেশন দেখে অনেকের টনক নড়ে! কাজেকর্মের চাপে সেটিই স্বাভাবিক। তবে তখনই আলাদা খরচ করে মেলবক্সের স্পেস কেনার প্রয়োজন নেই। কিছু প্রযুক্তিগত কৌশল জানলে নিজের মেলবক্সের স্পেস নিজেই বাড়িয়ে নিতে পারবেন।
মেল স্টোরেজ খালি করার পদ্ধতি
মেলবক্সের স্পেস কিছুটা খালি করার কথা ভাবুন। গুগল ড্রাইভে অনেকে পুরনো অপ্রয়োজনীয় ছবি, নথি রেখে দেন। সেখান থেকে ফাইল সাইজ খতিয়ে দেখে ফাইল ডিলিট করে দিতে পারেন। অপ্রয়োজনীয় মেলও কিছু কিছু করে ডিলিট করতে থাকুন। ১০ এমবি-র চেয়ে বড় মেল সহজে খুঁজে বের করতে চাইলে মেল-এর সার্চ বারে গিয়ে লিখুন has:attachment larger:10Mb। এটা লিখে ১০এমবি-র বেশি বড় আকারের যত অ্যাটাচমেন্ট রয়েছে সবই দেখাবে। সেগুলো আর প্রয়োজনীয় না হলে একসঙ্গে ধরে ডিলিট করে দিতে পারেন। ট্র্যাশ ফোল্ডার থেকেও ‘ডিলিট ফরএভার’ করে দিতে পারেন।
অনেক সময় জি মেল অ্যাকাউন্টে স্প্যাম ফোল্ডারে অনেক মেসেজ আসে। সেখানকার মেসেজগুলো খালি করলেও অনেকটা জায়গা বাঁচবে। মেলের তালিকার উপরে একটি বক্স রয়েছে। সেখানে টিক করে, সব মেসেজ একসঙ্গে ডিলিট করে দিলে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যাবে স্টোরেজ।
স্পেস খালি করার আরও একটি নিয়ম আছে। গুগল ফোটোতে গিয়েও জায়গা বের করা যায়। সার্চ বারে https://photos.google.com/settings লিখে এখানে যান। নিজের গুগল অ্যাকাউন্টে লগ ইন করুন। না, সেখানকার কোনও ছবি ডিলিট করার প্রয়োজন নেই। বরং স্টোরেজ সেভার অপশন বেছে নিন। এতে সব ছবি একটু কম হাই কোয়ালিটির হয়ে স্পেস অনেকটা বাঁচিয়ে দেবে। স্টোরেজও কিছুটা ফেরত পাবেন।
উপরের উপায়গুলি মেনে মেলবক্সের স্টোরেজ বাড়িয়ে তোলার পর সচেতন হন। প্রতিদিনের মেল ব্যবহারের পর, কাজ মিটে গেলে প্রতিদিন ডিলিট করুন। প্রয়োজনীয় মেল স্টার মার্ক করে পৃথক করে রাখুন। পরে কাজ মিটলে সেগুলোও ডিলিট করে দিন। এতে স্পেস হারানোর সমস্যা আর হবে না।