


জানেন কি, জুতো নির্বাচনে সতর্ক না হলে জুতোই উল্টো আমাদের ওপর নির্যাতন করতে পারে! অনেক আরামদায়ক জুতোও শারীরিক গঠনে প্রভাব ফেলে। নষ্ট করে দিতে পারে শরীরের স্বাভাবিক ভঙ্গি। রোজকার ব্যবহৃত সাধারণ জুতো পিঠ, কোমর, হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথার কারণ হয়। তাই সঠিক মাপের জুতো পরতেই হবে। আমরা বিষয়গুলো কখনও খেয়াল করি না। অথচ স্থান-কাল ভেদেও জুতোর প্রভাব আছে। বাজার কিংবা স্কুল থেকে শিশুকে নিয়ে আসার জন্য আলাদা জুতোই পরি, অফিসের জন্যও আলাদা... এমনকী টয়লেটে যাওয়ার জন্যও আলাদা জুতো পরতে হয়। কিন্তু এইসব বিষয় নিয়ে আমরা ভাবি না। সামনে যা পাই, পরে ফেলি। গবেষণা বলছে, এই অসাবধানে বেছে নেওয়া জুতো স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
ভুল মাপের জুতো পরলে কী কী স্বাস্থ্য সমস্যা?
নতুন জুতো কিনতে গিয়ে দেখলেন, পরতে একটু অস্বস্তি লাগছে। দু’দিন পর ঠিক হয়ে যাবে ভেবে কিনে নিলেন। ছোট্ট এই অস্বস্তিই হতে পারে বুনিয়নের মতো সমস্যার জন্মদাতা। এতে পায়ের আঙুলের গোড়ার হাড় বেরিয়ে আসে, নখের স্বাস্থ্যও খারাপ হতে পারে! পায়ের রোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পা পুরো শরীরের ভিত্তি। জুতো সঠিক মাপের না হলে, পায়ে প্রভাব পড়ে। এতে পা ক্লান্ত হয়। পুরো শরীরের গঠনকাঠামো এলোমেলো হয়ে যায়। পা থেকে ব্যথা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
ব্যথা যেভাবে শুরু হয়
ফিজিক্যাল থেরাপিস্টরা জানাচ্ছেন, মানুষের হাঁটার সময় পায়ের আকার কিছুটা বদলায়। প্রথমে গোড়ালি মাটি স্পর্শ করে। তারপর পা সামনের দিকে এগয়। সবশেষে আঙুল ছড়িয়ে মাটি ঠেলে সামনে এগোনোর চূড়ান্ত কাজটি করে। কিন্তু ভুল জুতো পরলে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
স্বাভাবিকভাবে মাটিতে পা ফেলার প্রক্রিয়াকে বলে ‘প্রোনেট’। চওড়া পায়ে সরু জুতো পরলে পা মাটিতে ঠিকভাবে বসে না। পায়ের সম্পূর্ণ ভর মাটিতে পৌঁছাতে পারে না। ফলে ছোট ছোট পদক্ষেপ ফেলতে হয়। কার্যকারণ হিসেবে কোমর ও পিঠকে বাড়তি চাপ নিয়ে সামনের দিকে ঠেলতে হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সামান্য এই বিষয়টি পরিণত হয় দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায়। নষ্ট হয় হাঁটার ধরন। জয়েন্টে চাপ পড়ে এবং ভারসাম্যের সমস্যা দেখা দেয়।
যেভাবে বুঝবেন জুতোই ব্যথার কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, জুতোর ক্ষয়ে যাওয়া অংশ অনেক কিছু বলে দেয়। আমাদের সাধারণ হাঁটা প্রোনেটের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে পায়ের খিলান তার অবস্থান থেকে নীচে নেমে আসে।
অতিরিক্ত প্রোনেটে জুতোর ভেতরের দিক ও গোড়ালি বেশি ক্ষয়ে যায়। ফলে পা ভেতরের দিকে হেলে যায়। সঙ্গে পায়ের গোড়ালি ভেতরের দিকে ঘুরে যায়। এতে পায়ের পাতার টিস্যুতে প্রদাহ হয়। ধীরে ধীরে হাঁটুর ভেতরের ব্যথা, কোমরের ব্যথা এবং পিঠেও ব্যথা দেখা যায়। এইসব সমস্যা দেখা দিলে বুঝতে হবে, জুতোই সব নষ্টের গোড়া।
কীভাবে সঠিক জুতো খুঁজবেন
ব্যথার কারণ জুতো হলে, অবশ্যই পায়ের আকার ও নড়াচড়ার সঙ্গে মানানসই জুতো বেছে নিতে হবে। আমাদের পা সাধারণত শক্ত মিডসোলযুক্ত ফ্লাট জুতো পরে বেশি স্বস্তি পায়। অন্যদিকে উঁচু খিলানযুক্ত জুতোয় বাড়তি কুশনিং লাগে। চওড়া পায়ের জন্য আঙুল রাখার টো-বক্স বেশি প্রশস্ত হতে হয়। আর সরু পায়ের জন্য দরকার টাইট-ফিট। এই জন্য জুতো কিনলে দিনের শেষে কেনা উচিত। কারণ, তখন পা সবচেয়ে বেশি ফোলা ও কাহিল অবস্থায় থাকে। এই অবস্থায় জুতো যদি ভালোভাবে ফিট হয়, তাহলে শরীর আরাম পাবে।
নতুন জুতো পায়ে পরে একটু হেঁটে পরীক্ষা করে দেখলেই হবে। জুতোর হালহকিকত নিয়মিত খেয়াল রাখা জরুরি। সোল ক্ষয়ে গেল কি না, কুশনের অবস্থা কী ইত্যাদি নানা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।
আমাদের শরীরের প্রতিটি অংশ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। তাই কোনও অংশকেই কম গুরুত্ব দেওয়া উচিত হবে না।
লিখেছেন সুরজিৎ মুখোপাধ্যায়