


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: আন্দোলনের জন্য ‘নিষিদ্ধ’ যন্তরমন্তর। কিন্তু সেখানেই মঙ্গলবার সকালে আচমকা জাতীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভ। কাদের? সেই ককরোচ। আর তারপরই সরাসরি আক্রমণ নরেন্দ্র মোদিকে। অভিজিৎ দিপকের তোপ, ‘কোন সত্যি লুকোচ্ছেন মোদি? এদেশে জাতীয় পতাকা ওড়ানোও কি অপরাধ? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসলে আমাদের ভয় পেয়েছেন। তাই এত কড়াকড়ি করা হচ্ছে।’
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার আশপাশে। যন্তরমন্তরে নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি আগের মতোই দৃশ্যমান। তবে এত সকাল বলেই মোতায়েন পুলিশ কর্মীদের শরীরী ভাষা কিছুটা ঢিলেঢালা। হঠাৎই দেখা গেল, লাগোয়া প্যাটেল চক মেট্রো স্টেশন চত্বরের ভিতর থেকে যন্তরমন্তর লক্ষ্য করে ছুটে চলেছেন বেশ কয়েকজন তরুণ। মেট্রো স্টেশনের চৌহদ্দিতে জেডিইউ অফিসের প্রায় ছ’ফুট লম্বা লোহার গেট টপকে একের পর এক তরুণ লাফ দিয়ে নামলেন যন্তরমন্তরের রাস্তায়। পকেট থেকে জাতীয় পতাকা বের করে ওড়াতে শুরু করে দিলেন কেউ কেউ। রাস্তাজুড়ে ছোটাছুটি। এত নাটকীয়ভাবে বিক্ষোভ হবে, তা টেরই পায়নি দিল্লি পুলিশ। তাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় ভাব কাটিয়ে উঠতেই সময় লেগেছে বেশ। পরে পুলিশ ছুটে এল বটে। কিন্তু ততক্ষণে শাহের দিল্লি পুলিশের যতটুকু ‘ড্যামেজ’ হওয়ার, হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার সাতসকালে ধোঁকা খেয়ে গিয়েছে দিল্লি পুলিশ। নেপথ্যে? সেই ককরোচ।
সিজেপি নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা, অজিঙ্ক সিন্ধের নেতৃত্বে ‘ককরোচ’রা ‘নিষিদ্ধ’ যন্তরমন্তরে রীতিমতো দাপিয়ে বেড়িয়েছে। দিল্লি পুলিশ এদিন এতই ভ্যাবাচাকা খেয়েছে, ছুটে এসে একের পর এক ‘ককরোচ’কে আটক করতেই গলদঘর্ম অবস্থা তাদের। সিজেপির হাতে চরম নাস্তানাবুদ হয়ে পরে অবশ্য সৌরভ, রাঙ্কা, অজিঙ্ক সহ ‘ককরোচ’ নেতৃত্বকে আটক করেছে পুলিশ। সিজেপির নেতা-কর্মীরা আটক হতেই মোদি সরকারকে তুমুল তোপ দেগেছেন অভিজিৎ দিপকে। তাঁর তোপ, ‘এই ভয় আরও বাড়বে? জ্ঞানেশ কুমারকে কেন বাঁচাতে চাইছে কেন্দ্র? সম্ভবত কোনো সত্যি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
ককরোচ জনতা পার্টির অভিযোগ, আটক হওয়া নেতাদের জাফরাবাদ থানায় নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। তাঁদের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি একইভাবে আইনজীবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। অবিলম্বে সিজেপি নেতৃত্বকে মুক্তির দাবি তুলেছেন ‘ককরোচ’রা। মঙ্গলবার বাম ছাত্র-যুব সংগঠনও হুংকার দিয়েছে, যন্তরমন্তর পুনরুদ্ধার করা হবে। সারা দেশ যন্তরমন্তরে পরিণত করা হবে। স্বাভাবিকভাবেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের রক্তচাপ বাড়ছে। কিছুটা হলেও তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে এদিন যন্তরমন্তর চত্বরে গিয়ে। সোমবারই প্রতিবাদ বিক্ষোভের সরকার নির্ধারিত স্থান হিসাবে যন্তরমন্তরকে ‘ডি-নোটিফাই’ করেছে কেন্দ্র। কিন্তু এদিন সকালে ‘ককরোচ’দের ফিল্মি কায়দায় বিক্ষোভের পর ওই এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। যন্তরমন্তরে প্রবেশের রাস্তায় একের পর এক গার্ডরেলের ব্যারিকেড দেওয়া রয়েছে। সংলগ্ন কয়েকটি রাস্তাতেও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ফলে তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট। দফায় দফায় টহল দিয়েছে র্যাফ এবং আধাসেনা। যন্তরমন্তর এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।