


সংবাদদাতা, খড়্গপুর: ‘কোথায় হিরণ?’ এমনই পোস্টার হাতে, টর্চের আলো জ্বালিয়ে বিজেপি কাউন্সিলারকে খুঁজতে বেরোলেন খড়্গপুর শহরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০২১ সালে বিধায়ক ও ২০২২ সালে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার হয়েছিলেন হিরন্ময় চট্টোপাধ্যায় ওরফে হিরণ। সেই কাউন্সিলারকেই এখন নিজেদের বিপদের সময়ে পাওয়া যাচ্ছে না! অভিযোগ, এসআইআরে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের শতাধিক বাসিন্দার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। বুধবার রাতে সেই ডিলিটেড ভোটারদের সঙ্গে নিয়েই স্থানীয় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা এক অভিনব প্রতিবাদে শামিল হন।
এক হাতে ‘হি-র্যান’ (পালিয়ে গেছে) লেখা পোস্টার ও অন্য হাতে টর্চ লাইট নিয়ে হিরণের খোঁজে বের হন বাসিন্দারা। ববিতা সাহা নামে এক বধূ বলেন, ‘উনি খড়গপুরের বিদায়ী বিধায়কই শুধু নন, শহরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরও বটে। কিন্তু, ওঁকে এখন বিপদের সময় পাচ্ছেন না বাসিন্দারা। হিরণের ওয়ার্ডে পানীয় জলের সমস্যা আছে। কিছু জায়গায় লাইট লাগানো হলেও কিছু জায়গা অন্ধকার। আর উনি এসব পরিষেবার ব্যবস্থা না করে এখন গিয়েছেন হাওড়ার শ্যামপুরে ভোটে দাঁড়াতে!’ আরএক বাসিন্দা সোনালী দে বলেন, কয়েকটি রাস্তা করে দেওয়া ছাড়া, ওঁকে আর এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। কাউন্সিলারের শংসাপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। তাই আমরা ওঁকে খুঁজতে বেরিয়েছি! শেষপর্যন্ত কি হিরণকে পাওয়া গেল? প্রতিবাদীরা বলেন, পাওয়া যাবে কী করে! উনি তো পরিষেবা দিতে এসে খড়্গপুরেরই এক তরুণীকে বিয়ে করে ফেলেন। এখন আবার অন্য এক জায়গায় প্রার্থী হয়েছেন বলে শুনেছি।
অন্যদিকে, এই প্রতিবাদকে তৃণমূলের চক্রান্ত বলেই দাবি করেছেন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইনচার্জ শুভজিৎ ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার শুভজিৎবাবু বলেন, বিধায়ক হিসেবে দাদা (হিরণ) একশো শতাংশ কাজ করেছেন। শুধু নিজের ওয়ার্ডই নয়, অন্য সব ওয়ার্ডেও কাজ করেছেন। ওয়ার্ডে ৩৯টা রাস্তা হয়েছে। ৫টি সাবমার্সিবল বসানো হয়েছে। একাধিক বাতিস্তম্ভ বসানো হয়েছে। শুভজিৎ এও বলেন, দল ওঁকে অন্য জায়গায় প্রার্থী করেছে। তাই এখন প্রচারে ব্যস্ত। তবে ওয়ার্ডের ভালোমন্দের বিষয়ে হিরণদার খেয়াল আছে। উনি মাঝেমধ্যেই এখানে আসেন।
এদিকে খড়গপুরের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার বলেন, এটা পুরোপুরি ওয়ার্ডবাসীদের প্রতিবাদ। এনিয়ে কিছু বলব না। তবে, হিরণবাবু যদি সত্যিই খড়্গপুরের জন্য কাজ করতেন, তাহলে কি তাঁকে অন্যত্র পাঠানো হত!