


বিষ্ণুপদ রায়, হলদিবাড়ি: দুই সপ্তাহ বাদে রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন। বুথ কেন্দ্রগুলি ঠিকঠাক করা শুরু হয়েছে। কিন্তু এই চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্বে হলদিবাড়ি ব্লক প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে কয়েকটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। তারমধ্যে একটি বক্সিগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩১ নম্বর আইসিডিএস সেন্টার। এখানে ১০২ নম্বর বুথ করা হয়। কিন্তু এই বুথ নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। কারণ এটি বহুদিন ধরেই তালা মারা অবস্থায়।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৩ তারিখ হলদিবাড়ি ব্লকের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির হেল্পার ও কর্মী নিয়োগের ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় পাস করেও চাকরি না পাওয়ায় হতাশ হয়ে বেশকিছু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জমিদাতা সেন্টারে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরমধ্যে কয়েকটি অঙ্গনওয়াড়িতে ভোটের সময় প্রতিবছর বুথ করা হয়। রাজ্যে প্রথমদফায় ভোট আগামী ২৩ এপ্রিল। কিন্তু এখনও তালা বন্ধ কেন্দ্রগুলি খোলার ব্যবস্থা করা হয়নি। এদিকে, গ্রামবাসীদের অভিযোগ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ থাকায় যেমন শিশুদের খোলা আকাশের নীচে পঠনপাঠন ও পুষ্টিকর খাবার নিতে হচ্ছে, তেমনই নির্বাচনের কোথায় ভোট হবে সেটাও তাঁদের ভাবাচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্সিগঞ্জের ভোটার ময়নুল হক সরকার, সাহেব সরকার প্রমুখ বলেন, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের হেল্পার ও কর্মী নিয়োগের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরও চাকরি না পেয়ে হলদিবাড়িতে বেশকিছু আইসিডিএস সেন্টারে জমিদাতারা তালা মেরে দিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনা হলেও জমিদাতারা তালা খোলেননি। আমরা কোথায় ভোট দেব বুঝতে পারছি না। তাই আমরা চাই, দ্রুত প্রশাসন এ ব্যাপারে আমাদের নির্দিষ্টভাবে জানাক।
একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জমিদাতা আনারুল সরকার বলেন, জমি নেওয়ার সময় বলা হয়েছিল পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়া হবে। মেয়ে আইসিডিএস পরীক্ষা দিয়েছিল। কিন্তু ওর চাকরি হয়নি। তাই আমি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি। এ বিষয়ে মেখলিগঞ্জের মহকুমা শাসক অতনুকুমার মণ্ডল জানান, খুব শীঘ্রই অঙ্গনওয়াড়িতে থাকা বন্ধ বুথগুলি খোলার ব্যবস্থা করা হবে।