


সংবাদদাতা, কান্দি: এলাকায় সভা, মিটিং, মিছিল হলেও এখনও পর্যন্ত প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হয় সেই বাঁশের মাচাতেই। কান্দির হিজল এলাকায় এই ট্রাডিশন চলে আসছে কয়েক দশক ধরে। এবারের বিধানসভা ভোটের আগে ফের একবার ওই এলাকার বাঁশের মাচাগুলিতে রোজই ভিড় জমাচ্ছেন বাসিন্দারা। বিশেষ করে গ্রামের মোড়লদের সকাল ও সন্ধ্যায় চলছে প্রার্থী সম্পর্কে চুলচেরা বিশ্লেষণ। হিজল এলাকার ২০টি গ্রামে শতাধিক এমনই বাঁশের মাচা রয়েছে। এখন যেখানে আট থেকে আশি সবাই বসে কা কে ভোট দেওয়া যায়, তাই নিয়েই চলছে তর্কের তুফান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রত্যন্ত ওই এলাকায় মানুষের কিছুক্ষণের বিশ্রাম নেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েই বাঁশের মাচাগুলি তৈরি হয়। চাষের কাজ সেরে একটু জিরনো থেকে পথচারীরা গাছের ছায়ায় ক্লান্তি মিটিয়ে থাকেন। তবে ভোট এলেই মাচার দখল নেন ভোট চর্চাকারীরা। এবারের ভোটেও তেমনই ছবি দেখা গিয়েছে। নতুনগ্রাম হল ওই এলাকার সবচেয়ে জনবসতিপূর্ণ জায়গা। গ্রামে ঢোকার তিন মাথার মোড়ে বটগাছের নিচে রয়েছে একটি বড় আকারের বাঁশের মাচা। সোমবার সকালে সেখানেই বসেছিলেন চোখে চশমা, লাঠি হাতে দুই বৃদ্ধ। সঙ্গে ছিল আরও কয়েকজন যুবক। সেখানে এবারের ভোট সম্পর্কে চলছে তুমুল আলোচনা। এসআইআর নিয়ে মানুষের হয়রানি থেকে তৃণমূলের প্রতিশ্রুতি, প্রকল্পগুলি নিয়ে আলোচনা চলছিল। প্রবীণ আলিমুদ্দিন শেখের কথায়, একসময় এই এলাকায় নকশালদের দাপট ছিল। কিন্তু এখানকার মানুষের সংঘবদ্ধতার কারণে নকশালরাও আমাদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি। গ্রামের মানুষের একতার কাছে হার মেনেছে বহু রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব। কারণ আমরা অন্যায়ের সঙ্গে থাকি না।
ওই গ্রামের যুবক আশিফুল ইসলাম বলেন, এই এলাকায় অন্তত ২০টি গ্রামে শতাধিক বাঁশের মাচা রয়েছে। এই বাঁশের মাচা থেকেই ঠিক হয় মানুষ কোন প্রার্থীর পাশে থাকবেন। স্থানীয় নতুনগ্রাম কৃষি সমবায় সমিতির সম্পাদক আশারুল শেখ বলেন, এলাকায় মিটিং, মিছিল থেকে জনসভা প্রতিটি দলেই হয়ে থাকে। কিন্তু বাঁশের মাচার কাছে সবই হার মানবে। বাঁশের মাচাই স্থির করে দেয় এবারের ভোটে মানুষ কার পাশে থাকবেন। এই ট্রাডিশন কয়েকদশক ধরেই চলে আসছে।
কান্দির কংগ্রেস নেতা নরোত্তম সিংহ বলেন, বাঁশের মাচার আলোচনার গুরুত্বকে অস্বীকার করার জায়গা নেই। ভোটের সময় আমাদের স্থানীয় নেতৃত্বও সেখানে বসছেন। কান্দির তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব সরকার বলেন, মূলত গ্রামের যাঁরা মোড়ল বা প্রবীণ তাঁরাই এই সময় মাচায় বসে ভোট নিয়ে আলোচনা করেন। গ্রামের মানুষকে কোনটি ঠিক বা ভুল সে সম্পর্কে সতর্ক করেন। আমাদের দলের স্থানীয় নেতৃত্বও সম্প্রতি মাচায় বসে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন বলে জানতে পেরেছি। রাজনীতির আলোচনায় মগ্ন গ্রামের প্রবীণরা।