


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘যন্তরমন্তর-২.০’ অভিযান ঘিরে দিল্লি পুলিশের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট। রবিবার নজিরবিহীনভাবে শুনানি করে মোদি সরকারকে তাদের নির্দেশ, ‘লোহার ব্যারিকেড সরান। সর্বত্র তা লাগানোর প্রয়োজন আছে কি? পর্যালোচনা করুন। নিরস্ত্র নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ জমায়েতে বাধা দেওয়া যাবে না। বেআইনিভাবে আটকও নয়।’ নির্দেশ দেওয়া হল, স্বাভাবিক করতে হবে রেল এবং মেট্রো পরিষেবা। চালু করতে হবে ইন্টারনেটও। সাধারণ মানুষের যাতায়াতে অহেতুক বাধাদানও চলবে না। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলে কাউকে আটক করা যাবে না। তবে, প্রতিবাদীদেরও পুলিশি নিয়ম মেনেই প্রতিবাদ করতে হবে।
সরকারের পক্ষে শীর্ষ আদালতে সওয়ালে হাজির দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চের প্রশ্ন, গত ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও কেন শনিবার স্তব্ধ হল দিল্লি? এ ব্যাপারে কেন আদালত অবমাননার মামলা করা হবে না? তা নিয়ে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে দিতে হবে জবাব। ইস্যু করা হল নোটিস। সেদিনই হবে বিস্তারিত শুনানি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালন করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে দিতে হবে রিপোর্ট।
বিএনএসএস ১৬৩ ধারাকে হাতিয়ার করে শনিবার দিল্লি পুলিশ ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন দমন করেছে বলে অভিযোগ। কপিল সিবাল, মেনকা গুরুস্বামী, গোপাল শঙ্করনারায়ণের মতো দুঁদে আইনজীবীরা তাই সরকারকে সুপ্রিম কোর্টে চেপে ধরেন। যদিও সলিসিটর জেনারেল বলেন, ‘যতটা অভিযোগ করা হচ্ছে, তেমনটা নয়। ৪ হাজার ১৫৭টি ট্রেন চলাচল করেছে। দিল্লি মেট্রোর ৩০৩টি গেটের মধ্যে মাত্র ৪৭টি বন্ধ ছিল। সবই পরিস্থিতি বিচার করে।’ শনিবার তো বটেই, রবিবারও সুপ্রিম কোর্ট যাওয়ার রাস্তা ভগবান দাস রোডে ছিল পুলিশের ব্যারিকেড। ছিল বিএনএসএসের ১৬৩ ধারার ফেস্টুন। শনিবার আইনজীবীদেরও আটক করাই নয়, দিল্লি পুলিশ দুর্ব্যবহার করেছে অভিযোগ শুনে অসন্তুষ্ট হন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। বলেন, আদালত চত্বরের আশপাশে যদি ১৬৩ ধারা জারির নির্দেশ দেওয়া বোর্ড থাকে, অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে।