


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: প্রায় তিন বছর ধরে প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না আলুচাষিরা। সেই কারণে এবার উত্তরপ্রদেশে প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে আলু কম লাগানো হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে এই সময় প্রায় ১০০ শতাংশ চাষ হয়ে যায়। এবার অনেকে আলু ছেড়ে সরষে বা অন্য কিছু চাষ করেছেন। কয়েক দিন আগে পর্যন্ত সে রাজ্যে সাড়ে পাঁচ থেকে ছ’টাকা কেজি দরে চাষিরা আলু বিক্রি করছেন। উত্তরপ্রদেশে চাষ কম হওয়ায় এরাজ্যের চাষিরা আশার আলো দেখছেন। উত্তরপ্রদেশে সব থেকে বেশি আলু উৎপাদিত হয়। সেই আলু বিভিন্ন রাজ্যে যায়। উত্তরপ্রদেশে চাষ কম হলে বাংলার ব্যবসায়ীরা বিহার, ঝাড়খণ্ড সহ বিভিন্ন জায়গায় আলু পাঠাতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ভিন রাজ্যে আলু পাঠাতে বাধা দেওয়া হবে না। চাষিরা ভিনরাজ্যে আলু বিক্রি করতে পারবেন।
কৃষি ও বিপণন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, গত বছর কোনো রাজ্যের চাষি আলু বিক্রি করে লাভের মুখ দেখতে পারেননি। উত্তরপ্রদেশে তিন বছর ধরে আলুর দাম তলানিতে। সেই কারণে সে রাজ্যের চাষিরা এবার অন্য চাষে ঝুঁকছেন। তবে এরাজ্যের কৃষকদের জন্য সরকার একাধিক প্রকল্প ঘোষণা করেছেন। এক সময় মনে হয়েছিল বাংলাতেও হয়তো এবার চাষ কমে যেতে পারে। কিন্তু, রাজ্য সরকার পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ায় আগের মতোই আলু চাষ হবে বলে মনে হচ্ছে।
ব্যবসায়ী স্বপন মণ্ডল বলেন, বাংলার চাষিরাও ভাল নেই। আলু নিয়ে বিকল্প ভাবনা চিন্তা করা দরকার। তা না হলে সমস্যা মিটবে না। উত্তরপ্রদেশে এবছর আলু চাষ কম হয়েছে। প্রতি বছর সেরাজ্যে চাষ কম হবে, এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই। এখনো রাজ্যের হিমঘরগুলিতে বিপুল পরিমাণ আলু মজুত রয়েছে। সেগুলির কী হবে তার দিশা পাওয়া যাচ্ছে না। ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত আলু থাকলেও শেষ হবে না। রায়নার বিধায়ক সুভাষ পাত্র বলেন, বাংলার চাষিদের পাশে সরকার রয়েছে। আগের সরকারের ভুল নীতির খেসারত চাষিদের দিতে হয়েছে। সামনের বছর থেকে আর সমস্যা হবে না। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের আগ্রা, ফিরোজাবাদ, কনৌজ, হাথরস সহ সব এলাকাতেই এবছর তুলনামূলকভাবে আলু চাষ কম হয়েছে। জলদি জাতের চাষ কম হওয়ায় এখনো বাজারে নতুন আলু আসছে না। অন্যান্য বছরের মতো এবারও নতুন আলু বাজারে এলে বাংলার চাষিরা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতেন।