


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাপড়ের ব্যবসা রয়েছে। একইসঙ্গে নিয়মিত শেয়ার বাজারে লগ্নি বা ‘ট্রেডিং’ করেন। তার দৌলতে বিপুল টাকার মালিক হরিদেবপুরের এক অবিবাহিত, মাঝবয়সি মহিলা। ভুয়ো লগ্নির ফাঁদে পড়ে তিনি খোয়ালেন প্রায় দেড় কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিসের সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মহিলা। তার ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে সাইবার বিভাগ। তবে খবর লেখা পর্যন্ত, খোয়া যাওয়া টাকা বা প্রতারক, কোনওটির হদিশ পাননি গোয়েন্দারা।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জেনেছে, গত শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগকারিণী পুলিসকে জানিয়েছেন, হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন লগ্নি ও ‘শেয়ার ট্রেডিং’ সংক্রান্ত গ্রুপে রয়েছেন তিনি। সেই সব গ্রুপের বেশিরভাগ সদস্যকেই ব্যক্তিগতভাবে তিনি চেনেন না। গত শুক্রবার এমনই আরও একটি গ্রুপে আচমকাই তাঁকে ‘অ্যাড’ করে নেওয়া হয়। ‘সিকিওরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া’ বা সেবির লোগো দেওয়া রয়েছে সেই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের ‘ডিসপ্লে পিকচারে’। মহিলাকে উদ্দেশ্য করে গ্রুপ অ্যাডমিন লেখেন— ‘এখানে অনেক আর্থিক উপদেষ্টা রয়েছেন। আপনি যদি চান সেক্ষেত্রে আমাদের নিজস্ব অ্যাপের মাধ্যমেও ট্রেড করতে পারেন।’ সেই মেসেজের নীচে দেওয়া অ্যাপের লিঙ্কে ক্লিক করেন মহিলা। আর তা করা মাত্রই নিমেষে হ্যাক হয়ে যায় মহিলার মোবাইল। সেখান থেকেই প্রতারকরা হাতিয়ে নেন মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় তথ্য।
অভিযোগ, এরপর পাঁচ দফায় মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে এক কোটি ৪০ লক্ষ টাকা গায়েব হয়ে যায়। তখন তিনি ওই গ্রুপের আর্থিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু, সেই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে অভিযোগকারিণীর নম্বর ‘এগজিট’ করে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে গ্রুপটি ডিলিট করে দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে দু’টি সূত্র পুলিসের হাতে এসেছে। যে অ্যাপের মাধ্যমে লগ্নি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তার তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সেটি কোথা থেকে চালানো হচ্ছিল, তার খোঁজ করছেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, যে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মহিলাকে অ্যাড করা হয়েছিল, সেখানে থাকা নম্বরগুলি ট্র্যাক করছেন সাইবার বিভাগের অফিসাররা। তদন্তকারীরদের অনুমান, ভুয়ো আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করে প্রতারণা করা হয়েছে। লালবাজারের দাবি, তদন্ত চলছে। শীঘ্রই অভিযুক্তদের সন্ধান মিলবে