


সংবাদদাতা, কাটোয়া: পরকীয়ায় বাধা দিত। তাই ‘পথের কাঁটা’ সরাতে স্বামীকে খুনের অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে কাটোয়ার আমুল গ্রামের দক্ষিণপাড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম মহাদেব দাস (৩৩)। ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী মিতা দাসকে গ্রেপ্তার করেছে কাটোয়া থানার পুলিস। পুলিসের দাবি, তাঁর স্ত্রীকে জেরা করতেই সে খুনের কথা স্বীকার করেছে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কাটোয়ার এসডিপিও কাশীনাথ মিস্ত্রি বলেন, আমরা পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি।
পরিবারের অভিযোগ, মিতা মদের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে স্বামীকে খাওয়ায়। সে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর মাথায় বাঁশ মেরে খুন করে। এমনকী, মৃত্যু নিশ্চিত করতে মুখে বালিশ চাপা দিয়েও রাখা হয়। ঘরের রক্তের দাগ মুছতে গোবরও লেপা হয়। ছেলেমেয়েকে ঘুম পাড়িয়েই এই ঘটনা ঘটায় মিতা। পুরো ঘটনাটিকে একটি স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা সাজাতে স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে বলে শাশুড়িকে ডেকে জানায় সে। পরে স্থানীয়দেরও একই কথা জানায় সে। পরিবার-পরিজনদের তার কথায় সন্দেহ হওয়ায় কাটোয়া থানায় জানানো হয়। পুলিস মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভোর ৪টে নাগাদ মহাদেবের স্ত্রী মিতা দাস শাশুড়ি কাঞ্চনদেবীকে ডেকে আনে। তিনি কিছুটা দূরেই ছোট ছেলের বাড়িতে থাকেন। তিনি এসে দেখেন, ঘরের মেঝেতে ছেলের দেহ পড়ে রয়েছে। মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বের হচ্ছে। ঘরে গোবর লেপা হলেও চাপ চাপ রক্তের দাগ ফুটে উঠছে। মৃতের মাথায় ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। তাঁর সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। মৃতের স্ত্রীর দাবি, স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে স্বামীর। কিন্তু, ঘরে রক্ত পড়ে থাকতে দেখে কাঞ্চনদেবী প্রতিবেশীদের ডেকে আনেন। তারপরেই পুলিসে খবর দেওয়া হয়।
আমুল গ্রামের বাসিন্দা মৃত মহাদেবরা তিন ভাই। প্রত্যেকেই আলাদা থাকেন। মেজভাই জয়দেব বর্ধমানে হোটেলে কাজ করেন। ছোটভাই সহদেবের কাছেই মৃতের বাবা ও মা থাকতেন। আট বছর আগে মহাদেবের সঙ্গে মঙ্গলকোটের বাজার বনকাপাশি গ্রামের বাসিন্দা মিতার বিয়ে হয়। জয়দেব ও মিতার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মৃতের পরিবারের দাবি, মহাদেবকে ষড়যন্ত্র করে তার স্ত্রী খুন করেছে। কারণ, তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই পরকীয়ায় জড়িয়ে ছিল। পথের কাঁটা সরাতেই খুন করা হয়েছে। মৃতের মা কাটোয়া থানায় বউমার নামে লিখিতভাবে খুনের অভিযোগ করেছেন। তিনি লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, বউমা ছেলেকে খুন করেছে। বউমা মোবাইলে অন্যজনের সঙ্গে কথা বলত। তাই নিয়েই গোলমালের জেরেই সে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে। মৃতের মেজভাই বলেন, আমি ছিলাম না। দাদার মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি আসি। দাদাকে মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। বউদি অন্য একজনের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিল। তা নিয়ে প্রতিবাদ করতেই দাদাকে খুন করে দিল।
আমুল গ্রামে দু’কুঠুরি টিনের ঘরে থাকতেন মহাদেব। পুলিস ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা বাঁশের বড় লাঠি উদ্ধার করেছে। মৃতের বন্ধু কেষ্ট দাস বলেন, মিতার সঙ্গে একাধিক যুবকের সম্পর্ক ছিল। খুনের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি যুক্ত থাকতে পারে বলে আমাদের ধারণা।