


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এসআইআরে নাম বাদ যাওয়ায় বৃহস্পতিবার ভোর থেকে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে উপচে পড়ল মানুষের ভিড়। হাতে নথিপত্র, মুখে উদ্বেগ—ভোটার তালিকায় নিজের বা পরিবারের নাম ফের তুলতে জেলার নানা প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ। ভিড়ের মধ্যে চোখে পড়েছে মহিলাদের উপস্থিতি এবং তাঁদের তীব্র ক্ষোভ। বনগাঁ, বসিরহাট, বারাকপুর, থেকে নিউটাউন—জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সকাল হতেই জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। কেউ ভোরবেলা বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন। কেউ রাতেই রওনা দিয়েছেন। অনেকে ছোটো সন্তানকে কোলে নিয়েই লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের একটাই প্রশ্ন—বৈধ নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেও কেন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেল? অভিযোগ, সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর হঠাৎই বাদ গেছে বহু নাম। কোথাও দেখা যাচ্ছে, একটি পরিবারের ছ’জন সদস্যের মধ্যে কারও নাম নেই। কোথাও আবার তিন বা চারজনের নাম বাদ পড়েছে। আবার এমন ঘটনাও রয়েছে যেখানে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের নাম থাকলেও মহিলাদের নাম তালিকায় নেই। এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে মহিলাদের মধ্যেই।
মিনাখাঁ থেকে আসা গৃহবধূ সুজাতা মণ্ডল বলছিলেন, স্বামীর নাম আছে, শ্বশুরের নাম আছে। কিন্তু আমার আর আমার শাশুড়ির নাম নেই। সব কাগজ জমা দিয়েছি। তবু কেন নাম কেটে দেওয়া হল বুঝতে পারছি না। হিঙ্গলগঞ্জের বাসিন্দা কাকলি দাসের অভিযোগ, সকাল পাঁচটায় বাড়ি থেকে বেরিয়েছি। ছোটো বাচ্চাকে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। শুনানির সময়ও কাগজ জমা দিয়েছিলাম। এখন আবার আবেদন করতে হচ্ছে। আর কতবার আসতে হবে, কতবার লাইনে দাঁড়াতে হবে জানি না। এদিকে হাবড়া থেকে আসা রূপা সরকারের খেদ, আমি ২০০২ সালের ভোটার। এত বছর ধরে ভোট দিয়েছি। হঠাৎ করে এবার তালিকায় আমার নাম নেই বলা হচ্ছে। এটা অপমানজনক লাগছে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকেরই অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন যে সমস্ত নথি চেয়েছিল তা আগেই জমা দেওয়া হয়েছিল। তবু খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে বহু নাম বাদ গেছে। অনেক মহিলাই দাবি করছেন, তাদের পাড়ায় তুলনামূলক বেশি মহিলার নামই বাদ পড়েছে। এদিন জেলাশাসকের দপ্তরে আবেদন জমা দিতে গিয়ে অভিযোগ তোলেন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে। তাঁদের বক্তব্য, শুনানির মতো বিস্তারিতভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে না। কেবল কাগজে স্ট্যাম্প মেরে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। বারাকপুরে অনিতা বাইন বলেন, কাগজে স্ট্যাম্প মেরে নিচ্ছে। নাম আদৌ তালিকায় থাকবে কি না কেউ স্পষ্ট করে বলছে না।