


সংবাদদাতা, ডোমকল: একটি কথোপকথনের অডিও ভাইরাল হওয়াকে ঘিরে শোরগোল ডোমকলে। ভাইরাল অডিওটি ডোমকলের গড়াইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও ডোমকলের বিডিওর বলে দাবি করা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও ভাইরাল অডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’।
ভাইরাল অডিওতে ফোনের এক প্রান্তের ব্যক্তিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, আপনার যদি ওর থেকে টাকা নেওয়ার হয়, নেন না। নিয়ে কিন্তু আপনি ওকে ওয়ার্ক অর্ডারটা দিয়ে কাজটা করান। অপর প্রান্তের ব্যক্তি ‘স্যার’ সম্বোধন করে টাকা-পয়সার লেনদেনের কথা অস্বীকার করলে তাঁকে ফের বলতে শোনা যায়, না না, আপনি কাজ তো করান। আরে কী লজ্জার কিছু নাই তো। আপনার দু’টাকা না কামালে প্রধান কত টাকা পায়? অনারিয়াম ৫০০০ টাকাও পায় না। সেটা নিয়ে আমি বলছি না। প্রায় দু’ মিনিটের বেশি ওই অডিওর কথোপকথনে পঞ্চায়েতের দ্রুত কাজ করানো এবং অন্য গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির প্রসঙ্গও উঠে আসে। ওই অডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, অডিওতে গড়াইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানকে ডোমকলের বিডিও ওই কথা বলেছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি বিডিও শঙ্খদ্বীপ দাস। তবে তাঁর সম্মতি ছাড়া ফোনের একটি কথোপকথন রেকর্ডিং করা হয়েছে বলে থানায় অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করেছেন বিডিও। তবে প্রশাসনের এক সূত্রের দাবি, পুরনো কোনো সময়ে পঞ্চায়েতের কাজ দ্রুত করানোর প্রসঙ্গে ওই ধরনের কথোপকথন হয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে বিডিও থানায় অভিযোগ করার পরই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পুরনো ওই অডিও ভাইরাল করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এদিকে সংবাদমাধ্যমের সামনে এদিন গড়াইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হাসানুজ্জামান মণ্ডল দাবি করেন, তাঁর কাছে ওই ধরনের একটি নয়, প্রায় এক ডজন ফোনের রেকর্ডিং রয়েছে। সেগুলি তিনি আদালতে পেশ করার জন্য রেখেছেন বলেও দাবি করেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে কাটমানি সংক্রান্ত যে এফআইআর হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও দাবি প্রধানের। প্রধানের অভিযোগ, বিডিওর সঙ্গে কোনোরকম আপস না করে দুর্নীতিতে অংশ নিতে অস্বীকার করার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় বিডিও তাঁর সঙ্গে অসহযোগিতা করেছেন বলেও সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযোগ করেন তিনি।