


সংবাদদাতা, লালবাগ: সাবেক নবাবি তালুক মুর্শিদাবাদের অন্যতম দর্শনীয় স্থান মিরজাফর ও তার বংশধরদের কবর। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এই দর্শনীয় স্থানটি ‘১১০০ কবর’ নামে পরিচিত। নবাবি ইতিহাসের অন্যতম নিদর্শন এই কবরস্থানটিতে মালি, নামাজ পাঠ, তদারকি সহ বিভিন্ন কাজের জন্য কর্মচারীরা রয়েছেন। খাতায় কলমে তাঁদের সংখ্যা ৫২ জন হলেও ৬-৭ জন সশরীরে উপস্থিত থাকেন। এঁদের মাস মাইনে ৬ টাকা থেকে সর্বাধিক ৩৭টাকা। অর্থাৎ মাসের ৩০টি দিন কাজের পর কবরস্থানের কোনও কর্মী হাতে পান ৬ টাকা, কেউ ১১টাকা, কেউ ১৮ টাকা আবার কেউ পান সর্বোচ্চ ৩৭ টাকা। বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে টাকার অঙ্কগুলি অবাস্তব বা অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই বাস্তব।
মুর্শিদাবাদ পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে জাফরাগঞ্জের ১১০০ কবরে শায়িত রয়েছেন মীরজাফর, তাঁর স্ত্রী মুন্নি বিবি, নবাব ওয়াসেফ আলি মির্জা, নবাব হুমা ঝাঁ এবং তাঁদের বংশধরেরা। কবরস্থান পরিচালনা সংক্রান্ত কাজকর্ম ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নবাবরা নিজামত ট্রাস্ট নামে একটি ফান্ড গঠন করেন। এই নিজামত ট্রাস্ট ফান্ড থেকেই কর্মচারীদের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খরচ করা হতো। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে নতুন বেতন কাঠামোয় কর্মচারীদের মাইনে বেড়ে হয় ৬ টাকা থেকে ৩৭ টাকা। গত ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে ওই হারেই মাস মাইনে চালু রয়েছে। সরকারি নিয়মেই কর্মচারীরা বেতন পেয়ে থাকেন। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্থানীয় প্রশাসন থেকে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারকে একাধিকবার চিঠি পাঁঠিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে জানিয়েছেন কবরস্থানের কর্মচারীরা। ১১ টাকা মাস মাইনেতে দ্বাররক্ষীর কাজ করেন একবাল হোসেন। তিনি বলেন, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ডিউটি। মাস মাইনে হিসেবে যেটা পাওয়া যায় বর্তমান সময়ে এক কাপ চায়ের দাম নয়। তবে, টিকিট বিক্রির টাকা থেকে অল্প হলেও পাওয়া যায়। মাসিক ১৮ টাকা বেতনে মালির কাজ করেন তাজ হোসেন। তিনি বলেন, আগে বাবা করতেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকে আমি করছি। তবে গত দু’বছর ধরে এই সামান্য মাইনেটুকুও পাচ্ছি না।
কবরস্থানের বর্তমান সুপারিন্টেন্ডেন্ট তারেক আলম মির্জা বলেন, নবাবদের সময়ে নিযুক্ত কর্মচারীদের উত্তরসূরীরা বংশানুক্রমে এখানে কাজ করে আসছেন। মাইনে বাড়ানোর জন্য অনেকদিন ধরেই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। মাস শেষে যে টাকা হাতে পাই সেটা দিয়ে একদিনের আনাজ কেনা হয় না। সেই কারণে কর্মচারীদের অনেকে আসেন না। সংসার চালানোর জন্য অন্য কাজ করছেন।
তবে, বেশ কয়েক বছর ধরে এই কবর স্থানে পর্যটকদের প্রবেশের জন্য মাথাপিছু ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। মাসের শেষে টিকিট বিক্রির টাকা কর্মচারীরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। সেটা কম হলেও কিছুটা সুরাহা হয়।