


সংবাদদাতা, করিমপুর : মেশিন খারাপ হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগ। ফলে প্রতিদিন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে দূরদূরান্ত থেকে হাসপাতালে আসা রোগী ও তাঁদের পরিজনদের। যদিও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, খুব দ্রুত নতুন মেশিন চালু হবে। হাসপাতালের চিকিৎসক এক্স-রে করতে বললেই রোগীদের বাইরে ছুটতে হচ্ছে। সেইসঙ্গে রোগীকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার ঝামেলার পাশাপাশি খরচও বেশি হচ্ছে। নিত্যদিন এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ রোগীরা। করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালের সুপার মনীষা মণ্ডল বলেন, হাসপাতালের বহির্বিভাগেই দৈনিক গড়ে ৪৫০ জন রোগী আসেন। তার মধ্যে গড়ে প্রায় ২০ জন আসেন হাড় সংক্রান্ত নানা সমস্যা নিয়ে। সেক্ষেত্রে তাঁদের সবাইকেই এক্স-রে করানোর জন্য বাইরে কোথাও পাঠাতে হচ্ছে। বাড়ছে রোগীর দুর্ভোগ।
কয়েকদিন আগে দুর্ঘটনায় পায়ের যন্ত্রণা নিয়ে করিমপুর হাসপাতালে ভর্তি হন তরুণ বিশ্বাস। তাঁর পরিবারের লোকজনের দাবি, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দেখানোর পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক বুকের এক্স-রে করার কথা বলেন। কিন্তু হাসপাতালে এক্স- রে মেশিন খারাপ থাকায় সেখানে এই পরিষেবা নেওয়া যায়নি। তাই শেষমেশ বাধ্য হয়েই শুধু এক্স-রে করানোর জন্য রোগীকে নিয়ে বাইরে ছুটতে হল। বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে এসে এভাবেই হয়রান হতে হচ্ছে।
একই অবস্থা পেশায় দিনমজুর আনারুল শেখের। তিনিও কোমরে চোট পেয়ে এই হাসপাতালেই এসেছিলেন। হাসপাতালের চিকিৎসক তাঁকে এক্স-রে করাতে বলেন। ওই প্রৌঢ়ের দাবি, গরিব মানুষ চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে ছোটেন। কিন্তু বাইরে থেকে এক্স-রে করাতে গিয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ হয়ে যায়। অথচ ওই টাকায় ওষুধ কিনব ভেবেছিলাম। তা আর হল না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসার জন্য করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালের উপর স্থানীয় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ নির্ভর করেন। করিমপুর ২ ব্লকের নতিডাঙা গ্রামীণ হাসপাতালে এক্স-রে করানোর ব্যবস্থা না থাকায় সেখান থেকেও বহু রোগী এই হাসপাতালে আসেন। তাঁরাও সবাই এক্স-রের সুবিধা না পেয়ে ফিরে যান। কয়েক বছরে হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণ হলেও সেই অনুপাতে হাসপাতালের পরিকাঠামোর কোনও উন্নতি হয়নি। ফলে হাড় ভাঙার সমস্যা নিয়ে নিত্যদিন হাসপাতালে এসে হয়রান হতে হচ্ছে বহু মানুষকে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দশেক আগে এক্স-রে মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ান না থাকায় বহু সময় এই বিভাগ বন্ধ ছিল। এখন এক্স-রে মেশিন পরিচালনার জন্য বেতন দিয়ে একজন টেকনিশিয়ান রাখতে হচ্ছে। অথচ সেই মেশিন সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে মানুষের।