


নিজস্ব প্রতিনিধি, কল্যাণী: কল্যাণী ঘোষপাড়া স্টেশনে নামতেই কানে ভেসে এল, ‘বন্ধুরা, আপনারা কল্যাণী আইটিআই মোড়ে আসতে গেলে ঘোষপাড়া স্টেশনে নামবেন। কল্যাণী স্টেশনে নামলে কিন্তু আবার টোটো করতে হবে।’ আবার অন্যপাশ দিয়ে কানে এল, ‘আমরা চলে এলাম কল্যাণীতে। এখন পৌঁছে যাব আইটিআই মোড়!’ মহালয়ার দুপুরে এটাই ছিল কল্যাণী ঘোষপাড়া স্টেশনের চিত্র। লুমিনাস ক্লাবের মণ্ডপে যাওয়াটাই এখন ‘জেন জি’-র নতুন ‘ট্রেন্ড’। তাই পুজোর দোরগোড়ায় কলকাতার আগে ইউটিউবাররা খাতা খুলতে চাইছেন কল্যাণী থেকে।
দুপুরের দিকে তুলনামূলক ভিড় কম ছিল। তাই সুবিধাই হয়েছে ইউটিউবারদের। অপেক্ষাকৃত ফাঁকা মাঠে রিলস থেকে ভিডিও সবই চলল। কেউ আবার হাতে ছোট মাইক্রোফোন নিয়ে মণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে কীভাবে কল্যাণীতে আসা যাবে, কোথায় খাওয়া যাবে সবটাই বলে দিলেন। কেন কল্যাণী? তাঁরা বলছেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়াতে এটাই খাচ্ছেন মানুষজন।’ শুধুই কি আর ইউটিউবার! মণ্ডপ তো বন্ধ। কাজেই লাইন দিয়ে ভিতরে ঠাকুর দেখার বিষয় নেই। বিকেলের দিকে মণ্ডপের সামনের ত্রিপল তোলা হয়েছিল। তাই দেখে ঠাকুরের মুখখানি দেখার জন্য উঁকি ঝুঁকিও চলল। তারই ফাঁকে সপরিবার কিংবা সবান্ধবে এসে মণ্ডপকে ব্যাকড্রপে রেখে ছবি তোলা চলল। রিলস তৈরি করতে গিয়ে অনেকে একটু নেচেও নিলেন। তারপর সামাজিক মাধ্যমে লাইভ করা তো ছিলই। লাইভ শেষে নৈহাটির এক তরুণী বললেন, ‘বন্ধুদের মধ্যে আমিই প্রথম এলাম কল্যাণীতে। ষষ্ঠীর দিন আবার আসব।’
ভিড় যেখানে জমছে বলে খবর রটে গিয়েছে, হকাররা তো আসবেনই। কল্যাণীর আইটিআই মোড়ে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চলে এসেছেন হকাররা। একেবারে মণ্ডপের সামনে রাস্তার ধারে সানগ্লাস নিয়ে বসে পড়েছেন এক তরুণ। বলছিলেন, ‘এবছর প্রথম এলাম। আমাদের রানাঘাটে সকলে বলল, এখানে নাকি খুব ভিড় হয়। তাই এলাম। প্রতিদিন যাতায়ত করব বলেই ঠিক করেছি।’ সানগ্লাসের সঙ্গে ছেয়ে গিয়েছে আইসক্রিমের দোকান। তাঁদের মধ্যে জায়গা নিয়ে মনোমালিন্যও চলছে। কে কোথায় বসবে, এসব নিয়ে ঝামেলার মাঝেই বিক্রি হচ্ছে দেদার। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করার আগে পর্যন্ত অটো আর টোটো চালকদের রোজগারও বেড়েছে। কল্যাণী স্টেশন থেকে আইটিআই মোড় আবার আইটিআই থেকে রথতলা যাত্রীর অভাব হচ্ছে না। সব মিলিয়ে কল্যাণী কিন্তু বাঙালি মনে নতুন জায়গা করে নিয়েছে।