


রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: যে কোনও ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ব্যক্তিগত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্যই নম্বরটি। এক্ষেত্রে সহজ কথা হল, ওই ব্যক্তি নিজে চাইলেই তবে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর অন্যরা পেয়ে থাকেন। আর না জানিয়ে এক ব্যক্তির মোবাইল নম্বর সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া অবিবেচকের কাজ হিসেবেই গণ্য করা হয়। এখন তো ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরের সঙ্গে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, আধার, প্যান, রান্নার গ্যাসের কানেকশন, জীবন বিমার পলিসিসহ নানাবিধ পরিষেবা যুক্ত। এই পরিসরে কোনও ব্যক্তির মোবাইল নম্বর রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া নিয়ে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি এসআইআর কেন্দ্রিক। নির্বাচন কমিশনের তরফে এসআইআর প্রক্রিয়ায় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলওরা। এরাজ্যে তাঁরা সংখ্যায় প্রায় ৮১ হাজার! ইনিউমারেশন ফর্ম বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন তাঁরা। এখন চলছে সেই ফর্ম সংগ্রহ পর্ব। এই প্রেক্ষাপটেই সামনে এসেছে ফর্ম সংক্রান্ত বিষয়ে গত ৪ নভেম্বর থেকে দিন-রাত পার্সোনাল নম্বরে ফোন পাচ্ছেন বিএলওরা। ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফর্ম সংগ্রহের সময়সীমা। তারপর বেরোবে খসড়া ভোটার তালিকা।
কিন্তু বিএলওদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর যেভাবে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে, তাতে আশঙ্কা ডিসেম্বর মাস থেকে কী হবে? আশঙ্কার পরিধি আরও বেশি মহিলা বিএলওদের নিয়ে। সমাজে একজন মহিলার আলাদা সম্মান রয়েছে। মহিলাদের সুরক্ষা-নিরাপত্তার দিকে সবসময় নজর থাকে। সেক্ষেত্রে মহিলা বিএলওদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর যেভাবে সর্বত্র ছড়িয়ে গিয়েছে, তাতে অনেকের মনে আশঙ্কা দেখা গিয়েছে, ফর্ম বা ভোটার তালিকা নাম না-থাকলে তাঁরা কোনও হুমকি পাবেন না তো? অন্য অসৎ উদ্দেশ্যেও কেউ মহিলাদের অসম্মান করতে পারেন। এই আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে। তাছাড়া মোবাইলে নম্বরে বিভিন্ন গিফট বা প্রাইজের প্রলোভন দেখানোর বিপদও সাম্প্রতিক অতীতে সামনে এসেছে। তাই মহিলা বিএলওদের মোবাইল নম্বরের এমন অপব্যবহারে আশঙ্কাও চিন্তায় ফেলেছে।
বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, অনুমতি না নিয়ে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া অপরাধ। বিএলওদের মোবাইল নম্বর এখন রাজ্যের যেকোনও প্রান্ত থেকে যে-কেউ বের করে দিতে পারছে। এই ব্যাপারে আমরা জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছি। বিষয়টি তুলে ধরেছি নির্বাচন কমিশনের কাছেই। আমাদের প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশনের বড়ো পদে যাঁরা বসে আছেন, তাঁদের মোবাইল নম্বর কেন কমিশনের ওয়েবসাইটে নেই? আসলে, কমিশন বিএলওদের সামনে রেখেছে, যা-কিছু হবে ওঁদের উপর দিয়েই।
অনেকে বলছেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল এসআইআর প্রক্রিয়ার কাজে বিএলওদের জন্য একটি আলাদা মোবাইল নম্বর দেওয়া। আর কাজ শেষে ওই নম্বরটির কোনও অস্তিত্বই থাকত না।