


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় থাকা উপভোক্তাদের ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট প্রদান শুরু হল জেলায় জেলায়। গত বছর পর্যন্ত ব্লকের আধিকারিকরা উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে দেখে এসে রিপোর্ট করতেন। কিন্তু এবারই প্রথম সুবিধা প্রাপকের বাড়ি গিয়ে ওই সার্টিফিকেট প্রিন্ট করে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। পঞ্চায়েত দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা ও বিশেষভাবে সক্ষম ভাতার উপভোক্তার সংখ্যা প্রায় ১৬ লক্ষ। প্রত্যেকের বাড়িতে গিয়ে এই কাজ করবেন আধিকারিকরা।
প্রশাসন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট উপভোক্তার বাড়িতে ব্লক থেকে একটি টিম যাচ্ছে। উপভোক্তার ছবি তুলে অ্যাপে আপলোড করছেন তাঁরা। আধার নম্বর ও অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে দেখে নেওয়ার পর সার্টিফিকেট তৈরি হচ্ছে অনলাইনে। সেই সংক্রান্ত মেসেজ যাচ্ছে উপভোক্তার মোবাইল ও দপ্তরে। এরপর ব্লক থেকে ওই সার্টিফিকেটের প্রিন্ট নিয়ে তুলে দেওয়া হচ্ছে উপভোক্তার হাতে। যার যেখানে ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট আছে, সেখানেও বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দপ্তরের দাবি, হাতে লাইফ সার্টিফিকেট পেয়ে গেলে প্রকল্পের টাকা তুলতে হয়রানি পোহাতে হবে না। আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রত্যেক উপভোক্তার হাতে লাইফ সার্টিফিকেট তুলে দেওয়ার টার্গেট নিয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তর। ঘরে বসে লাইফ সার্টিফিকেট পেয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম উপভোক্তারা।
আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই প্রকল্পে উপভোক্তাদের লাইফ সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষেত্রে আধার লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক। দেখা যাচ্ছে, এই কাজ রাজ্যের প্রায় ৯৯ শতাংশেরই হয়ে গিয়েছে, যা দেশের মধ্যে সর্বাধিক। প্রসঙ্গত, জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ১৬ লক্ষ উপভোক্তার মধ্যে প্রায় ১১ লক্ষ বার্ধক্য ভাতা প্রাপক, পাঁচ লক্ষ বিধবা ভাতা প্রাপক এবং বিশেষভাবে সক্ষম ভাতা পান প্রায় ৪৫ হাজার জন।