


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত, বারাকপুর ও কলকাতা: কালবৈশাখীর দাপটে কলকাতা ও শহরতলিতে মৃত্যু হল দু’জনের। বৃহস্পতিবার কলকাতার পর্ণশ্রীতে ঝড়ের ধাক্কায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে রাস্তায়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় এক বৃদ্ধার। বারাসতে মাথায় গাছ ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের।
পর্ণশ্রী থানা এলাকার ইউনিক পার্কে প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে। সন্ধ্যায় পাড়ার দোকানে গিয়েছিলেন মিনা দাস (৬০)। আচমকা ঝড় শুরু হওয়ায় আটকে পড়েন তিনি। দোকানেই কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন বৃদ্ধা। ঝড়-বৃষ্টি থামলে তিনি বাড়ির পথে রওনা দেন। ঝড়ের দাপটে ইউনিক পার্কের কাছে একটি গাছের একাংশ ভেঙে পড়ে। একই সঙ্গে ছিঁড়ে যায় ওই গাছ ঘেঁষা একটি ল্যাম্পপোস্টের তার। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কোনওভাবে বিদ্যুতের সংস্পর্শে চলে আসেন বৃদ্ধা। তৎক্ষণাৎ মৃত্যু হয় তাঁর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পর্ণশ্রী থানা ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, বারাসত পুরসভার ইন্দিরা কলোনি এলাকায় গাছ ভেঙে মৃত্যু হয় গোবিন্দ বৈরাগীর (৩২)। কালবৈশাখীর দাপটে প্রাণহানি ছাড়াও প্রচুর বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে যায়। ভেঙেছে গাছও। ঝড় ও বৃষ্টির তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বারাসত বিদ্যুৎ ডিভিশন। কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে মানুষকে। জানা গিয়েছে, গোবিন্দ নিজের টালিচালের ঘরে শুয়ে ছিলেন। ঝড়ের দাপটে গোবিন্দর ঘরের উপরেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে একটি গাছ। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। মৃতের বউদি তুলি সর্দার বলেন, আমার দেওর সন্ধ্যার পর খাওয়া দাওয়া করে ঘরেই শুয়ে ছিলেন। ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ায় মৃত্যু হয়েছে। ওই সময় আমরা বাড়িতে ছিলাম না।
ঝড়ে বারাসতের আদিবাসী পাড়াতেও গাছ ভেঙে কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টিটাগড়ের ১১ নম্বর ওয়ার্ডে উপড়ে যায় একটি বড় বটগাছ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টিটাগড় পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীপাড়া অঞ্চলে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির দেওয়ালে গজিয়ে ওঠা বটগাছ রাতে ঝড়ে ভেঙে পড়ে পাশের একটি বাড়ির উপরে। প্রাচীন বটগাছ উপরে যাওয়ার ঘটনা ছাড়াও মে দিবসের রাতে প্রবল ঝড় বৃষ্টিতে ইছাপুরের রাইফেল ফ্যাক্টরির সামনে একটি বড় গাছ উপরে যায়। ব্যস্ত ঘোষপাড়া রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে, কোনও হতাহতের খবর নেই। বিদ্যুৎদপ্তরের বারাসত ডিভিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, কালবৈশাখীর ঝড়ের দাপটে হাই এবং লো-টেনশন মিলিয়ে প্রায় ১৪৭টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। গাছ এবং গাছের ডাল ভেঙে পড়ার ফলেই এই বিপত্তি ঘটেছে। এছাড়াও ৬টি ট্রান্সফর্মারের ক্ষতি হয়েছে। বারাসত ডিভিশনের ডিভিশনাল ম্যানেজার সোমনাথ মণ্ডল বলেন, ঝড় থেমে যাওয়ার পর ১২২টি টিম যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কাজ করেছেন। রাতেই অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরে এসেছে।