


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিধু মুসাওয়ালা হত্যার কারিগর লরেন্স বিষ্ণোই এবং কবাডি খেলোয়াড় রানা বালাচৌরিয়া খুনের নেপথ্যচারী বলবিন্দর সিং ওরফে ‘ডোনি বল’। একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। রাইভাল গ্যাং। আর সেই ‘ডোনি বল’ সিন্ডিকেটেরই তিন শার্প শ্যুটার গ্রেপ্তার হল খাস হাওড়া স্টেশনে। ট্রেন ধরে অন্য রাজ্যে পালানোর আগেই বেঙ্গল ও কলকাতা পুলিশের এসটিএফের যৌথ তল্লাশিতে ধরা পড়ে যায় করণ পাঠক, তরণদীপ সিং ও আকাশদীপ সিং। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ওই কবাডি খেলোয়াড়কে খুনের নেপথ্যে ছিল এই তিন শ্যুটারই। অভিযানে সঙ্গে ছিল পাঞ্জাব পুলিশের টিমও। নেপাল, সিকিম ঘুরে তারা পৌঁছেছিল কলকাতায়। এখানেই লুকিয়ে ছিল টানা আটদিন। বারবার অবস্থান বদল করায় পুলিশ কিছুতেই নাগাল পাচ্ছিল না তাদের। কিন্তু ট্র্যাকে থেকে তিনজনকেই অবশেষে পাকড়াও করল পুলিশ। সোমবার হাওড়া আদালতে তোলা হলে তিনদিনের ট্রানজিট রিমান্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। তাদের এবার দাঁড় করানো হবে পাঞ্জাবের মোহালি কোর্টে।
রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর, ১৫ ডিসেম্বর নিজের দলের সঙ্গে মোহালিতে কবাডিতে অংশ নিতে এসে গুলিতে ঝাঁঝরা হন কবাডি খেলোয়াড় তথা প্রোমোটার কাঁওয়ার দিগ্বিজয় সিং ওরফে রানা বালাচৌরিয়া। মোহালির সোহানায় অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় রানার ভক্ত সেজে সেলফি তুলতে যায় আততায়ীরা। এরপরই করণ ও তরণদীপ ওই কবাডি খেলোয়াড়কে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে। টিমের ‘লজিস্টিকাল সাপোর্ট’ আকাশদীপ গাড়িতে তুলে ওই দু’জনকে নিয়ে পালায়।
তদন্তে নেমে পাঞ্জাব পুলিশ জানতে পারে, হামলকারী তিন শার্প শ্যুটার ডোনি বল সিন্ডিকেটের সদস্য। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করা হয়। তারপর শুরু হয় তল্লাশি। গ্রেপ্তারের পর তারা জেরায় জানিয়েছে, রানা তাদের রাইভাল গ্যাং লরেন্স বিষ্ণোইদের হয়ে কাজ করছিল। সেই কারণেই তাঁকে খুন করেছে ডোনি বল ও কুশল চৌধরী গ্যাং। ডোনি বলের কথামতোই দুই শ্যুটার করণ ও তরণদীপ সেখানে গিয়েছিল। তিন গ্যাংস্টারের খোঁজে নেমে তদন্তকারীরা দেখেন, মোবাইল বন্ধ। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বদলে যাচ্ছে নম্বরও। কিন্তু তারা টাকা পাচ্ছে কোথা থেকে? গ্যাংয়ের জনা ৩০ সদস্য ও তাদের সহযোগীদের মোবাইলে নজরদারি চালায় পুলিশ। লেনদেনের সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, কলকাতার একটি হোটেলে পাঞ্জাব থেকে টাকা গিয়েছে। ছবিটা পরিষ্কার হয়ে যায় তাঁদের কাছে। দ্রুত শহরে পৌঁছে পাঞ্জাবের অফিসাররা কথা বলে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের সঙ্গে। লেনদেনের সূত্র ধরে সন্ধান মেলে মার্কুইজ স্ট্রিটের গেস্ট হাউসের। ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় যৌথ বাহিনী। জানতে পারে, আসল আধার দিয়েই ৪ জানুয়ারি উঠেছিল তিনজন। ৬ তারিখ চেক আউট করেছে। আরও কয়েকটি ইউপিআই লেনদেন ধরে তখন খোঁজ মেলে হাওড়ার একাধিক হোটেলের। তড়িঘড়ি সেখানে যায় বাহিনী। কিন্তু দেখে, কোনও হোটেলেই তিন গ্যাংস্টার নেই। এক-দু’দিন থেকেই চেক আউট করেছে। মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে রবিবার অফিসাররা লোকেশন পেয়ে যান হাওড়া স্টেশন এলাকায়। সঙ্গে সঙ্গে হানা দিয়ে তিন শার্প শ্যুটারকে গ্রেপ্তার করা হয়।