


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে ২০২০ সালের প্যানেল থেকে নিয়োগ নয়। পুরনো নির্দেশ বজায় রেখেই এই সংক্রান্ত পুনর্বিবেচনার মামলা (রিভিউ পিটিশন) খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রর চেম্বার বেঞ্চ এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে। ২০১৬ সালের নিয়োগ বিধি (রিক্রুটমেন্ট রুল) মোতাবেক মেরিট লিস্টের মেয়াদ এক বছর। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলে সেই প্যানেল থেকে নিয়োগ নয়। ফের সেই অবস্থানই স্পষ্ট করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সিদ্ধান্তকে ফের সিলমোহর দিল শীর্ষ আদালত।
গত ২০২৪ সালের ৯ মে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি হৃষিকেশ রায় এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রর বেঞ্চ তাদের নির্দেশে জানিয়েছিল, ২০১৭ সালের টেট (টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট) উত্তীর্ণদের ২০২২ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আগের ফাঁকা থাকা পদে ভর্তি করে ভুল করেনি রাজ্য। কিন্তু সেই নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে মামলা করেন আলি হোসেন মণ্ডল নামে চাকরি না পাওয়া ২০১৪ সালের টেট উত্তীর্ণ প্রার্থী। কিন্তু তাঁর পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হয়ে গেল।
ঘটনা হল, ২০১৪ সালের টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২০ সালে। প্রাথমিক স্কুলে সহকারী-শিক্ষকের ১৬ হাজার ৫০০ শূন্যপদে নিয়োগ। যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ হয় ১২ হাজার ৫৭১ জনের। খালি থেকে যায় ৩ হাজার ৯২৯টি পদ। আর এই সংখ্যা নিয়েই মামলা। পরবর্তীকালে ২০১৭ সালে ফের হল টেট। নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২২ সালে। সেসময় ১১ হাজার ৭৬৫ টি শূন্যপদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য। এই সংখ্যার মধ্যে আগের ফাঁকা পড়ে থাকা ৩ হাজার ৯২৯টি পদও অন্তর্ভূক্ত করে পর্ষদ।
ততদিনে ২০২০ সালের প্যানেলের মেয়াদও (এক বছর) শেষ হয়ে গিয়েছে। তবুও হাইকোর্টে মামলা করেন ২০১৪ সালের টেট উত্তীর্ণ চাকরি না পাওয়ারা। হাইকোর্টে তাদের জয় হয়। হাইকোর্ট জানায়, ২০২০ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফাঁকা থাকা ৩ হাজার ৯২৯টি পদে ২০১৪ সালের টেট উত্তীর্ণদেরই নিতে হবে। সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন সাদেক বিশ্বাস সহ ২০১৭র টেট উত্তীর্ণদের একাংশ। একইভাবে পর্ষদও। সেই মামলার নির্দেশেই সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দেয়, পর্ষদের সিদ্ধান্ত ঠিক। প্যানেলের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর নতুন নিয়োগে পুরনোদের যুক্ত করা হবে না। রিভিউ পিটিশনে সেটিই বজায় রাখল সুপ্রিম কোর্ট।