


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জঙ্গি কার্যকলাপ আটকানো বা যেকোনও নাশকতার তদন্তের দায়িত্ব তাদের হাতে রয়েছে। অথচ সেই জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) অধিকাংশ পদেই লোক নেই। অফিসার থেকে কনস্টেবল বহু পদই খালি। লোকসভায় এক তৃণমূল সাংসদের করা প্রশ্নে কেন্দ্র এই তথ্য জানিয়েছে। তাই বিভিন্ন ঘটনার তদন্তভার নেওয়ার পর ঘটনাস্থলে যাওয়া, তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে রীতিমতো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে এনআইএ’কে। বহু ক্ষেত্রেই শ্লথ হচ্ছে তদন্ত প্রক্রিয়া।
২৬/১১’র পর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং যেকোনও ধরনের জঙ্গি হামলার মোকাবিলা ও সন্ত্রাসবাদীদের খোঁজখবর করতে এনআইএ তৈরি করেন। বিভিন্ন রাজ্যে নাশকতার ঘটনার তদন্তভার তারা নিয়েছে। এনআইএ’র তৎপরতায় জঙ্গি সংগঠন আইএম-সহ বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর কোমর ভেঙে গিয়েছে। লস্কর, আইএস, আলকায়েদা-সহ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের মাথাকে তারা গ্রেপ্তার করেছে। সম্প্রতি তৃণমূল এমপি মালা রায় সংসদে জানতে চান, এনআইএ’র কর্মীসংখ্যা কত? তাদের হাতে কতগুলি কেস রয়েছে? কতজনের সাজা হয়েছে। জবাবে রাষ্ট্রমন্ত্রী নিতানন্দ রাই জানান, সাজার ক্ষেত্রে ৯৭.৪৩ শতাংশ সাফল্য রয়েছে তাদের। গত তিনবছরে তারা ৭৮টি মামলায় সাজা করিয়েছে। গত ৩০ জুন পর্যন্ত তাদের হাতে কেসের সংখ্যা ৬৭৭।
কিন্তু এতগুলি মামলার তদন্ত সঠিকভাবে চালানোর জন্য যত সংখ্যক অফিসার এবং কর্মী প্রয়োজন, তা এনআইএ’তে নেই। লোকসভায় মন্ত্রীর উত্তরেই তা স্পষ্ট। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এডিজি, আইজি, ডিআইজি থেকে নিচুতলা পর্যন্ত এনআইএ’তে সব মিলিয়ে ৫৪১টি পদ খালি। যাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করবেন সেই ইনসপেক্টর ও এসআই পদে যথাক্রমে ৭৭টি ও ৯৩টি পদ খালি।
জঙ্গিদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস অর্থাৎ ল্যাপটপ, মোবাইল পরীক্ষার জন্য সাইবার এগজামিনারেরও ১৭টি পদ খালি। এত অল্প সংখ্যক কর্মী নিয়ে রীতিমতো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে এনআইএ’কে।
সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের শীর্ষ স্তরে আলোচনা হয়েছে। ফাঁকা পদগুলি দ্রুত পূরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।