


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: আজ, চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর বিশ্বখ্যাত ভাসানের শোভাযাত্রা। ৭০টি পুজো কমিটির ২৪৫টি গাড়ির বহরে সাজবে শোভাযাত্রা। আর থাকবে নয়নাভিরাম আলোক সমাবেশ। বেশকিছু বছর পর এই প্রথম নতুন ধরনের আলোকসজ্জায় শহরকে উদ্ভাসিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে ২০২৫ সালের শোভাযাত্রাকে ঘিরে বাড়তি আকর্ষণ দেখা দিয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এবার শোভাযাত্রার বহরও বাড়ছে। ২০২৪ সালে যেখানে ৬৯টি পুজো কমিটি শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিল, সেখানে এবার এই সংখ্যা আরও একটি বেড়েছে। ইতিমধ্যেই শনিবারের রাতের আকাশ থেকে রবিবার ভোরের আলো ম্লান করে দেওয়ার তৎপরতা শুরু হয়েছে চন্দননগরে। রকমারি থিম আর বিপুল আলোকসজ্জার বাহারে দুনিয়া মাতিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি প্রায় সারা।
ভাসানের শোভাযাত্রা নিয়ে পুজো উদ্যোক্তাদের তরফে যেমন ব্যস্ততা তুঙ্গে, তেমনই পুলিশ ও প্রশাসন মহলেও সাজ সাজ রব। শনিবার রাতে শোভাযাত্রা। পরের দিন রবিবার। ফলে বিপুল ভিড় ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই মিলেছে। আবার, পুজোর অষ্টমী ও নবমীতে দুর্যোগের পরিস্থিতিতে অনেকেরই পুজো দেখার সাধ মাটি হয়েছে। ফলে, জগৎখ্যাত শোভাযাত্রায় তার রেশ আছড়ে পড়বে, এমনটাই মনে করছে প্রশাসন থেকে পুজোর উদ্যোক্তারা। যে কারণে ভিড় সামাল দিতে কোমর কষছে পুলিশ। পুরসভার তরফেও চন্দননগরের একাধিক ভাসানের ঘাট সাজিয়ে তোলা, সেখানে পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। শোভাযাত্রার পথ সাজিয়ে তোলা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে একপ্রস্থ ভাসান হবে, আর সন্ধ্যায় শোভাযাত্রা। ভাসানে দুর্ঘটনা এড়াতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে, সাজিয়ে তোলা হয়েছে স্ট্রান্ড রোড। এনিয়ে চন্দননগর পুরসভার মেয়র রাম চক্রবর্তী বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আছে। ফলে, শোভাযাত্রা ও ভাসানকে ঘিরে যাবতীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভাসানের শোভাযাত্রা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির চেয়ারম্যান (ভাসান ও শোভাযাত্রা) মানব দাস বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশ মেনে যাবতীয় পুজো কমিটি প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে। নিরাপত্তার দিকে কড়া নজর রাখা হয়েছে।
চন্দননগরের ভাসানের শোভাযাত্রা এমনিতেই জগৎখ্যাত। এবার নতুন ধরনের আলোর আত্মপ্রকাশ ঘটবে। যান্ত্রিক, বৈদ্যুতিক, বৈদ্যুতিন, কম্পিউটার গ্রাফিক্স ও প্রযুক্তিবিদ্যার সমন্বয়ে নতুন চিত্তাকর্ষক আলোর বাহার দেখা যাবে। কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ সাউ বলেন, বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তার কারণে এবারও শোভাযাত্রা গতবারের তুলনায় বড় হচ্ছে। যে মুগ্ধতা চন্দননগরের শোভাযাত্রাকে ঘিরে থাকে, তা এবার বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ভিড়ের দাপট বাড়বে ধরে নিয়েই আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার অমিত পি জাভালগি বলেন, আমরা প্রস্তুত আছি। পুজোর মতো ভাসানের শোভাযাত্রাও নির্বিঘ্নে এবং যাবতীয় ঐতিহ্যকে সম্মান দিয়ে পার করা হবে।
আজ, শনিবার রাত পার হলেই কার্যত এবছরের মতো শেষ হবে বাঙালির উৎসব মরশুম। শনিবার বিকেল নামার আগেই তাই চন্দননগরে জমবে ভিড়। সন্ধ্যার মুখে আকাশে জ্বলে উঠবে তারা আর গঙ্গাপাড়ের জনপদ সেজে উঠবে কোটি কোটি ‘তারা’র সমাবেশে। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে তৈরি নাগরিকরাও।
শোভাযাত্রার প্রস্তুতি।-নিজস্ব চিত্র