


দেরাদুন: মাটিতে চাপ চাপ রক্ত। ছড়িয়ে ছিটিয়ে জুতো, পোশাকের টুকরো। রক্তাক্ত দেহ। রবিবার এমনই ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার। এদিন সকাল ৯টা নাগাদ স্থানীয় মনসাদেবীর মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হল পুণ্যার্থীদের। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল ৮ জনের। আহত কমপক্ষে ৩০। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিন সকালে মন্দির চত্বরে ছিল ভক্তদের ব্যাপক ভিড়। পাহাড়ের কোলে মন্দির। সিঁড়ি ভেঙে উপরে পুজো দিতে যাচ্ছিলেন ভক্তরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেইসময় কেউ বা কারা রটিয়ে দেয় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়েছে। আতঙ্কে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। মাটিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে অনেকে। তাদের মাড়িয়েই ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে থাকে অন্যরা। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিস, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনায় জখম এক মহিলা জানিয়েছেন, ‘আমরা দেবী দর্শন করতে গিয়েছিলাম। আচমকা লোকজন ছুটতে শুরু করল। মাটিতে পড়ে চিৎকার করছিল অনেকে। ওরা আমার মাথার উপর দিয়ে, আমার ছোট ছোট ছেলেমেয়ের শরীরের উপর দিয়েই ছুটে পালাতে থাকে। এদিক-ওদিক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল অনেকেই। কেউ যন্ত্রণায় আর্তনাদ করছিল। কারও আবার সাড়া মিলছিল না।’ এটুকু বলতে গিয়েও ওই মহিলা হাঁফাচ্ছিলেন। তাঁর চোখে মুখে আতঙ্ক। হরিদ্বারের এসএসপি প্রমেন্দ্র সিং দোবাল জানিয়েছেন, গুজব থেকেই আতঙ্ক ছড়ায় বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান। তবে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তিনি। দুঃখপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও। হরিদ্বারের জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের দেখতে আসেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ ও আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন তিনি। ঠিক কী কারণে এই পরিস্থিতি, তা জানতে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে চালু করা হয় একাধিক হেল্পলাইন নম্বরও।
এই দুর্ঘটনায় রাজ্যের বিজেপি সরকারের ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলেছে বিরোধীরা। আম আদমি পার্টি নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দাবি, উত্তরাখণ্ড সরকারের গাফিলতি ও ব্যর্থতার জেরেই এই দুর্ঘটনা। এর দায় বিজেপি সরকারকেই নিতে হবে।