


তেহরান: আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চেপেছে আগেই। তা সত্ত্বেও আমেরিকা-ইজরায়েলের চোখে চোখ রেখে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। যুদ্ধের ১৯ দিন অতিক্রান্ত। তার পরেও ইরানের এই সক্রিয়তায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কোথা থেকে যুদ্ধের খরচ পাচ্ছে তেহরান? এই অবস্থায় সামনে এল ইরানের তেল রপ্তানি সংক্রান্ত পরিসংখ্যান। তাতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পরেও তেল রপ্তানি চালিয়ে গিয়েছে পশ্চিম এশিয়ার এই দেশ। হরমুজ প্রণালী দিয়ে অন্তত ৯০টি জাহাজ অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তেলের একাধিক ট্যাঙ্কারও। এখনো তারা লক্ষ লক্ষ ব্যারেল তেল বিক্রি করে চলেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করে তেহরান। তবে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেই প্রণালী যে খোলা হয়েছে, তা পরিসংখ্যান বিষয়ক সংস্থা লয়েডের নথি থেকেই স্পষ্ট। নির্দিষ্ট করে ঠিক কত জ্বালানি ইরান বিক্রি করেছে, তা জানা সম্ভব নয়। তবে জাহাজ চলাচলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে লয়েড জানিয়েছে, পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে এই ‘নিষিদ্ধ ট্রানজিট’ পয়েন্ট দিয়ে ১ কোটি ৬০ লক্ষ ব্যারেল তেল পাস হয়েছে। কারা কিনছে এত তেল? ট্রেড ডেটা অ্যানালিস্ট সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, মূলত চীনই এখন ইরানের তেলের বড়ো ক্রেতা। ভারতকে যেখানে আলোচনার মাধ্যমে গ্যাস আনতে হয়েছে, সেখানে চীনের প্রতি উদার অবস্থান নিয়েছে তেহরান। এর আরও একটা কারণ রয়েছে। চীনা মুদ্রা ইউয়ানের মাধ্যমেই এই বিপুল তেল কেনা হয়েছে। লয়েড লিস্ট অব ইন্টেলিজেন্স জানিয়েছে, ১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে ৮৯টি জাহাজ পাস হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টিই তেলবাহী ট্যাঙ্কার। ৮৯ জাহাজের এক-পঞ্চমাংশ ছিল ইরানের পতাকাবাহী। বাকিগুলিতে চীন ও গ্রিসের পতাকা লাগানো ছিল।