


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শিবপুরের এ জে সি বোস ইন্ডিয়ান বোটানিক্যাল গার্ডেনের উদ্যোগে এবার সাধারণ মানুষ অনুভব করবেন উদ্ভিদবিদ্যার সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার সম্পর্ক। এখানে পুরোনো বৃক্ষের ছায়ায় হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়বে এক নতুন সুপরিকল্পিত উদ্যান। নাম নক্ষত্র বাটিকা। ভারতীয় ঐতিহ্য, জ্যোতিষবিদ্যা এবং আধুনিক উদ্ভিদবিজ্ঞানকে এক সুতোয় গেঁথে তৈরি করা হয়েছে এই অভিনব বাগিচা। সোমবার নক্ষত্র বাটিকার উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের যুগ্মসচিব বেদপ্রকাশ মিশ্র। উপস্থিত ছিলেন গার্ডেনের পদস্থ কর্তারাও।
ভারতীয় পুরাণ, জ্যোতিষ ও উদ্ভিদবিজ্ঞানের মাঝে যে গভীর সংযোগ রয়েছে, সেই জ্ঞানের ব্যবহারই এই বাগিচাকে আলাদা করে তুলেছে। প্রাচীন শাস্ত্রে বহু নক্ষত্র, গ্রহ ও রাশির সঙ্গে গাছের মিল রয়েছে। কোথাও তা চিকিৎসায়, কোথাও আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতীক হিসেবে। সেই ঐতিহ্যকে নতুনভাবে সাজিয়ে, আধুনিক বোটানিক্যাল বিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করেই তৈরি হয়েছে এই নক্ষত্র বাটিকা। প্রায় অর্ধেক একর বাগিচায় রয়েছে ২৭ নক্ষত্রের প্রতীক ২৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, অন্যদিকে নবগ্রহের ৯টি বৃক্ষ। আর তার সঙ্গে ১২ রাশির উদ্ভিদ। সব মিলিয়ে ৩৩টি প্রজাতি, যা ২৫টি পরিবারে বিভক্ত। ফ্যাবাসি, মোরাসি, পোয়াসি পরিবারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি এই প্রকল্পে জায়গা পেয়েছে। অধিকাংশই ভারতীয় উপমহাদেশের স্থানীয় ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি। নক্ষত্র বাটিকায় রয়েছে অর্জুন, লাল চন্দন, নাক্স ভমিকা, কুল, মহুয়া, নিমের মতো গাছেরা। বোটানিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর ডঃ কণাদ দাস বলেন, ‘নক্ষত্র বাটিকায় প্রতিটি উদ্ভিদের সঙ্গে যুক্ত পৌরাণিক কাহিনি, বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস ও পরিবেশগত ভূমিকা একসঙ্গে শেখা যাবে। এটি এক জীবন্ত পাঠশালা।’
বাগিচার পথ ধরে হাঁটলে প্রতিটি গাছের পাশে দেখা মিলবে একটি করে লেবেল। তাতে শুধু ল্যাটিন নাম নয়, রয়েছে কিউআর কোড। এই কোড স্ক্যান করলেই স্মার্টফোনে খুলে যাবে গাছটির উৎস, বিস্তৃতি, ব্যবহার, পরিবেশগত গুরুত্ব ও পৌরাণিক কাহিনি। উদ্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডঃ দেবেন্দ্র সিংয়ের কথায়, ‘বোটানিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার প্রধান কাজ উদ্ভিদের শনাক্তকরণ, নথিবদ্ধকরণ ও সংরক্ষণ। নক্ষত্র বাটিকা সেই কাজকে আরও বড় মাত্রা দেবে এবার। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, গবেষক থেকে প্রকৃতিপ্রেমী, সবার জন্যই এটি ওপেন-এয়ার ক্লাসরুম।’