


শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ‘হিন্দুত্বের রক্ষক’ দাবি করে আসছে। কিন্তু সেই পদ্মপার্টিরই এক নেতার বিরুদ্ধে উঠল মন্দির নির্মাণে ‘বাধা’ দেওয়ার অভিযোগ। আর এমন নালিশ করছেন তাদেরই ছাত্র সংগঠন এবিভিপির রাজ্য কমিটির এক সদস্য। ঘটনাটি অশোকনগরের বিড়া এলাকার।
এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে বিজেপির বিরুদ্ধে গর্জে উঠছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিড়া স্টেশন লাগোয়া এলাকায় গতবছর ২২ জানুয়ারি একটি হনুমান মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন কার্তিক মহারাজ। কাজটি ধীরে ধীরে চলছিল। কিন্তু হঠাৎই বিজেপি নেতা প্রদীপ মজুমদার সেই কাজে বাধা দিচ্ছেন। অভিযোগ করেছেন মন্দির কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত এবিভিপি রাজ্য কমিটির সদস্য প্রীতম রায়। অথচ, মন্দির কমিটির সভাপতি এই প্রদীপবাবুই। নানা অজুহাতে কাজটি তিনি আটকে দিয়েছেন বলে অভিযোগ।
এবিভিপি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলা পরিষদ আসনে প্রদীপবাবু বিজেপি প্রার্থী ছিলেন। কখনো পুলিশ আবার কখনো-বা প্রশাসনকে ‘ভুল’ বুঝিয়ে কাজ আটকে দিচ্ছেন তিনি! এলাকায় একটি রাস্তা তৈরির কাজেও তিনি বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। রাজনীতির কারবারিদের কথায়, বিজেপি নিজেদের হিন্দুত্বের ধারক বলে দাবি করে। অথচ সেই দলেরই এক নেতা মন্দির তৈরি আটকে দিচ্ছেন!
মন্দির কমিটি সূত্রে আরো জানা গিয়েছে, আগামী ২ এপ্রিল মন্দিরটি উদ্বোধনের কথা। বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরের নেতাদেরও সেখানে উপস্থিত থাকার কথা ওইদিন। কিন্তু কাজটি হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে কমিটি। এনিয়ে এবিভিপি নেতা প্রীতম রায় বলেন, ‘প্রদীপবাবু নিজেকে বিজেপি দাবি করেও মন্দিরের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। মন্দির কমিটির সিল ও লেটারহেড ব্যবহার করে এই কাজে বাধা দিচ্ছেন তিনি। অথচ মন্দির নির্মাণে কোনো বাসিন্দারই আপত্তি নেই। তাই বিষয়টি নিয়ে জেলা ও রাজ্য স্তরে আমরা লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। এই ব্যাপারে উপযুক্ত পদক্ষেপ চাই সকলে।’
এই বিষয়ে ফোন করা হলে বিজেপি নেতা প্রদীপ মজুমদার প্রথমে বলেন, ‘ব্যস্ত আছি, পরে ফোন করুন।’ এরপর একাধিকবার ফোন ও মেসেজ করেও তাঁর উত্তর মেলেনি। এনিয়ে অশোকনগরের তৃণমূল বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী বলেন, ‘বাংলায় পুজো করতে দেওয়া হয় না বলে গুজব ছড়ান বিজেপির দিল্লির ডেইলি প্যাসেঞ্জার নেতারা। কিন্তু বাস্তবে তাঁদের দলের নেতারাই মন্দির করতে দিচ্ছেন না। হিন্দুত্বের বুলি কপচানো উচিত নয় বিজেপি নেতাদের।’ বিজেপির রাজ্য নেতা তাপস মিত্রের জবাব, ‘বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’ -নিজস্ব চিত্র