


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলার ‘দুর্গাপুজো’র পর এবার ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেল আলোর উত্সব ‘দীপাবলি’। ইউনেস্কোর ‘ইনট্যাঞ্জিবল কালচারাল হেরিটেজ’য়ের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ভারতের দীপাবলি উত্সব। দিল্লির লালকেল্লায় বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উচ্ছ্বসিত দেশবাসী। বাংলাজুড়েও উচ্ছ্বাস। দীপাবলি-কালীপুজো পশ্চিমবঙ্গে ধুমধাম করে পালন হয়। বাংলার মানুষের বক্তব্য, ‘দুর্গোত্সবের পর দীপাবলির স্বীকৃতি বাঙালির মুকুটে জোড়া পালক জুড়ল।’
শহরের অন্যতম প্রাচীন বারোয়ারি কালীপুজো হিসেবে পরিচিত উত্তর কলকাতার ফাটাকেষ্টর পুজো। কলকাতা তথা বাংলার কালীপুজো-দীপাবলি উত্সবের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র এই পুজো। উদ্যোক্তা প্রবন্ধন রায় বলেন, ‘আমাদের জন্য খুবই আনন্দের খবর। দেশ স্বীকৃতি পেয়েছে। তার বড় অংশীদার তো আমরাই। স্বীকৃতি উদযাপন হবে।’ ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাংলার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছিল। ফোরাম ফর দুর্গোত্সব এ বছরও স্বীকৃতি উত্সব উদযাপন করবে ১৪ ডিসেম্বর। দীপাবলির স্বীকৃতি প্রাপ্তির খবরে উচ্ছ্বসিত ফোরাম। সংগঠনের সহ সভাপতি শাশ্বত বসু বলেন, ‘বাংলা তথা ভারতের দীপাবলি উৎসব ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে। এ খবর আনন্দের এবং গর্বের। আগামী বছর আলোর উৎসব আরও রঙিন হয়ে উঠবে। উৎসবের উদ্যোক্তারা ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে উৎসাহিত হবেন।’
ইদানীংকালে দীপাবলি উত্সবের সময় আতসবাজি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাজির কারণে পরিবেশের দূষণ ঘটছে বলে বিস্তর অভিযোগ। কিন্তু দীপাবলি আর আতসবাজি কার্যত সমার্থক। ইউনেস্কো তাদের ওয়েবসাইটেও এই উত্সব নিয়ে লিখেছে, ‘দীপাবলির সময় ভারতের মানুষ তাঁদের বাড়ি ও রাস্তাঘাট আলো-মোমবাতি দিয়ে সাজিয়ে তোলেন। আতসবাজি পোড়ান ও নতুন আরম্ভের জন্য প্রার্থনা করেন।’ সেই আতসবাজিই এখন পরিবেশ দূষণের অন্যতম ভিলেন। এই শহরে বসে বাজিবাজার। তার উদ্যোক্তা শুভঙ্কর মান্না বলেন, ‘স্বীকৃতির খবরের থেকে ভালো আর কিছু হতে পারে না। এই স্বীকৃতি আমাদের সকলের। দীপাবলিকে আরও আলোকিত করার জন্য, দূষণমুক্ত করার জন্য আমরা সবুজ বাজির ব্যবহারের কথা সবসময় বলে থাকি। কারণ আতসবাজি ছাড়া তো আর দেশের কোথাও দীপাবলি উদযাপন হয় না। পাশ্চাত্য দেশের এই স্বীকৃতি আমাদের আরও উত্সাহ জোগাবে।’
প্রধানমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, বিশ্বের নানা প্রান্তের ভারতবাসীর জন্য আজ গর্বের দিন। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত এক বিবৃতিতে বলেন, এটা গোটা দেশের জন্য গর্বের বিষয়। ইউনেস্কোর ওই তালিকায় ভারতীয় সংস্কৃতির অঙ্গ দুর্গাপুজো ছাড়াও কুম্ভ মেলা, গুজরাতের গরবা নাচ, যোগ এবং রামায়ণের বৈদিক মন্ত্রও রয়েছে।