


প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা ফসলকে পোকামুক্ত করতে এক বিশেষ যন্ত্রের উদ্ভাবন করেছেন। যার নাম দেওয়া হয়েছে,‘আলোর ফাঁদ’। ব্যাটারি চালিত এই যন্ত্র জমির এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে নিয়ে যাওয়া যায়। ফলে, এবার থেকে ফসল বাঁচাতে যথেষ্ট পরিমাণ কীটনাশকের ব্যবহার আর দরকার পড়বে না বলে বিজ্ঞানীদের দাবি। কৃষকদের মধ্যে নতুন এই যন্ত্র ব্যবহারে আগ্ৰহ বাড়ছে।
ঝাড়গ্রাম জেলাজুড়ে ধান, সর্ষে,তিল ও নানা ধরনের সবজি চাষ হয়। অনিষ্টকারী পোকামাকড় ফসলের প্রধান শত্রু। জমির ফসলে কী ধরনের পোকামাকড় আক্রমণ করেছে, সে সম্বন্ধে চাষিদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য থাকে না। বাজার থেকে কেনা নানা কীটনাশক যথেষ্ট পরিমাণে জমিতে ব্যবহার করেন তাঁরা।যা পরিবেশে দূষণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের প্রভূত ক্ষতি করছে। ঝাড়গ্রাম কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের তৈরি ‘আলোর ফাঁদ’-এ পোকারা সহজে ধরা পড়ছে। নতুন এই যন্ত্র কৃষকদের দেওয়াও হচ্ছে। ঝাড়গ্রামের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা ঋতু ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও প্রচার চালাচ্ছেন। ঋতুর পুরনো সময় মেনে চাষবাস করলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ফসলের ক্ষতি হওয়ার বিষয় নিয়েও ক্যাম্প করা হচ্ছে।তাতেজেলায় সব্জি চাষে সাফল্য মিলতে শুরু করেছে। মরশুম অনুযায়ী ফসলের জমিতে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়ের উপদ্রব শরু হয়। পাহাড়, অরণ্যও সমতলের চাষযোগ্য জমিতে নানা ধরনের পোকামাকড়কে দেখা যায়।ফসলে তাদের হানা দেওয়ার পৃথক পৃথক সময় রয়েছে। কিন্তু চাষিরা এতসব না বুঝেই জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করে যান। সেগুলির বেশিরভাগটাই পোকামাকড় মারার কাজে লাগেনা। উল্টে উপকারী পোকামাকড়ও মারা যায়। বিজ্ঞানীদের দাবি,মৌসম অনুযায়ী এলাকা ভিত্তিক পোকামাকড়ের আক্রমণ রুখতে নতুন প্রযুক্তির ‘আলোর ফাঁদ’ কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। চাষিদের কাছে যন্ত্রটি ব্যাবহার করার প্রচার চালানো হচ্ছে। ঋতু ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে চাষিদের চাষের সময় বদলানো নিয়েও ধারাবাহিক প্রচার চলছে।
কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্যোগে ২০১৩ সাল থেকে করলা চাষের জন্য অক্টোবর ও নভেম্বরে বীজ বপনের জন্য লাগাতার প্রচার চালানো হয়েছিল।একদশক পরে উৎপাদিত করলা রাজ্য ছাড়াও ভিন্ন রাজ্যে এখন রপ্তানি হচ্ছে।ঝাড়গ্রাম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের অধিকর্তা ডঃ অসীম কুমার মাইতি বলেন, ‘পারদ আলোক ফাঁদ পাইরালিডে, স্ফিংগিডে, নক্টুইডে পরিবারের পোকামাকড়কে আকর্ষণ করে। আবার আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি অন্য ধরনের পোকামাকড়কে আকর্ষণ করে। ঝাড়গ্রামে বিভিন্ন ঋতুতে ফসলি জমিতে নানা ধরনের পোকামাকড় আক্রমণ করে। কৃষকরা বিষয়টি বুঝে আলোর ফাঁদ যন্ত্র ব্যাবহার করলে উপকৃত হবেন। ব্যাটারি চালিত এই যন্ত্র তৈরির খরচ কম। চাষিরা মাত্র এক হাজার ২০০ টাকায় এই যন্ত্র কিনতে পারবেন।কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে চাষিদের এই যন্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।চাষিরাও আগ্ৰহ দেখাচ্ছেন।’